আট মাস পর নিখোঁজ আবদুল্লাহকে ফিরে পেল স্বজনেরা

আট মাস পর নিখোঁজ আবদুল্লাহকে ফিরে পেল স্বজনেরা

পাবনা ও ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে ভুলক্রমে একটি ট্রেনে উঠে পড়ে ১০ বছর বয়সী শিশু আবদুল্লাহ। এরপর আর তার বাড়ি ফেরা হয়নি। দীর্ঘদিন তাকে খুঁজতে দিশেহারা হয়ে পড়েন স্বজনরা।

কুমিল্লা থেকে হারানো আব্দুল্লাহ অবশেষে দীর্ঘ ৮ মাস পর তার পরিবারের কাছে ফিরেছে। আর আব্দুল্লাহকে তার স্বজনদের কাছে ফিরতে সহযোগিতা করেছে পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানা পুলিশ।

গত সোমবার বেলা ১১টায় পরিবারের সদস্যদের কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়। অনেকদিন পর ভাইকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশু আব্দুল্লাহ। এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আব্দুল্লাহ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মামুন মিয়ার ছেলে।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জুলাই মাসের শুরুতে আবদুল্লাহ স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। তখন থেকে সে নিখোঁজ ছিল। সে ভুলক্রমে একটি ট্রেনে উঠে পড়েছিল। ফলে সে আর বাড়ি ফিরতে পারেনি। গত রোববার ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনের স্টেশন সুপারিন্টেন্ডেন (এসএসসিগন্যাল) মো: ইফতেখারুল ইসলাম শিশুটিকে দেখতে পান। এরপর রাত ৯টায় শিশু আব্দুল্লাকে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি।

কর্তব্য ও মানবিকতার তাগিদে রেলওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয়দের উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আব্দুল্লাহর নিখোঁজের বিষয়ে প্রচার চালানো হয়। পরে শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

আব্দুল্লাহ’র ভাই ফাহিম হোসেন জানান, স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়ে আব্দুল্লাহ আর ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায় নি। দীর্ঘ ৮ মাস পর গত রোববার রাতে জানতে পারি আব্দুল্লাহকে এখানে (ঈশ্বরদীতে) পাওয়া গেছে। পরে রাতেই ঈশ্বরদীতে এসেছি, আব্দুল্লাহকে ফিরে পেয়ে আমরা খুব খুশি।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, শিশুটিকে পাওয়ার পর সে তার ঠিকানা দিতে পারেনি। পরে আমরা সকল থানা, ফেসবুকসহ বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাই। অবশেষে তার পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। তার দুই ভাই ফাহিম ও রিশাত থানায় আসার পর আব্দুল্লাহ দুই ভাইকে জড়িয়ে ধরে এবং দীর্ঘদিনের না-পাওয়ার কষ্টের এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/160673