সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার শিমুল পলাশ সজ্জিত রেলপথ প্রকৃতি প্রেমীদের যেন মিলনমেলা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার শিমুল পলাশ সজ্জিত রেলপথ প্রকৃতি প্রেমীদের যেন মিলনমেলা

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: ফাগুনের আগুন মানেই শিমুল পলাশ ফুল। উঁচু গাছের ডালে ডালে লাল আগুন আর মুগ্ধতা ছড়িয়ে শিমুল পলাশ জানান দেয়  বসন্তের। এমনি এক বসন্তের বাস্তব পরিবেশ বিরাজ করেছে সিরাজগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধের স্মৃতিময় স্থান রাজশাহী-ঢাকা রেল পথের উল্লাপাড়ার ঘাটিনা রেল সেতু এলাকার রেলপথ, সড়ক ও করতোয়া নদীর দুইপাড়া জুড়ে। এযেন সংগ্রামের তাজা রক্তের আলপনা ও ভালবাসায় বসন্তের শিমুল পলাশের সজ্জিত রেল, সড়ক ও বহমান করতোয়া নদীপথের সৌন্দর্যের অপার মিলন অঙ্গন।

উল্লাপাড়া রেল স্টেশন হতে সলপ রেল স্টেশন মধ্যবর্তী প্রায় দুই কিলোমিটার রেল ও পাশে চলমান কালো পিচঢালা গ্রামীণ পাকা সড়ক ও রেল সেতুর নিচ দিয়ে প্রবাহমান করতোয়া নদীপাড় সজ্জিত এলাকার শিমুল পলাশ ফুল হাত ছানি  ডাকে।

আর সেই ডাকে সারা দিতে প্রতিদিন সিরাজগঞ্জ পাবনাসহ বিভিন্ন এলাকার প্রকৃতি প্রেমী শিশু, যুবক-যুবতী, মধ্য বয়সী ও রোমান্টিক বৃদ্ধ, নর-নারী একটু ভালবাসাবাসীর কথা বলতে কিছু সময়ের জন্য রোমান্টিক আবেগে হারিয়ে যেতে আগমন করেন এখানে। বসন্তের শুরু থেকে এই এলাকাটি প্রতিদিন পরিণত হচ্ছে সববসয়ী মানুষের ভাললাগার মিলন মেলায়।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিক কল্যাণ ভৌমিককে সাথে নিয়ে করতোয়া প্রতিনিধি সেখানে বেড়াতে গেলে দেখা হয় নানা রঙ-বেরঙয়ের মানুষের সাথে। সেতুর পাশে কথা হয় রামকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক চমক আরস্তা শিউলীর সাথে। তিনি বিনয় প্রকাশ করে বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে এখানে  আসি। ভাল লাগে বসন্তের এই অপার সৌন্দর্য দেখতে। কিছু সময়ে জন্য প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে।

এই এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোতালেব হোসেন জানান, কয়েক বছর আগে এই এলাকার শিমুল ও পলাশ গাছের সংখ্যা অনেক ছিল কিন্তু যত্ন ও অবহেলায় কিছু গাছ মরে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী জানান, রেলপথ, সড়ক পথ ও নদী পাড়ের এই পলাশ শিমুল গাছে পরিচর্যা না নিলে অচিরেই হারিয়ে যাবে এই এলাকার সৌন্দর্য। তখন এখানে ঘটবে না প্রকৃতিপ্রেমীদের আগমন। তিনি এ ব্যাপারে কি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে ব্যাপারে প্রয়োজনী উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে জানান।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/160237