লেবাননে ব্যাপক হামলা ইসরায়েলের, পাল্টা জবাব হিজবুল্লাহর

লেবাননে ব্যাপক হামলা ইসরায়েলের, পাল্টা জবাব হিজবুল্লাহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হিজবুল্লাহর রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি শহরে বোমা ফেলেছে ইসরায়েল। রাতভর বিমান হামলার পর গতকাল শুক্রবার দেশটির রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এক ব্যক্তিকে তল্লাশি চালাতে দেখা যায়। 

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে ১২৩ জনকে হত্যা করেছে। পাল্টা জবাব দিচ্ছে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহও। তারা ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে তেল আবিবও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সব শহর খালি করতে বলেছে। হিজবুল্লাহর এমন হামলা সংগঠনটির সক্ষমতাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে আলজাজিরা এ খবর জানায়। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, গত সোমবার শুরু হওয়া ইসরায়েলের আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ১২৩ জন শহীদ ও ৬৮৩ জন আহত হন। লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গতকাল শুক্রবার ভোরে জানায়, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে। সরকারি জাতীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ বলছে, শত্রু যুদ্ধবিমানগুলো রাতে শ্রিফা, আইতা আল-শাব, তুলিন, আস-সাওয়ানা ও মাজদাল সেলেম শহরে হামলা চালায়। ভোরে পূর্ব লেবাননের দৌরিস শহরে আরেকটি হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বৈরুতের দাহিয়েহ উপকণ্ঠে নতুন হামলার খবরও দিয়েছে। তারা দক্ষিণ লেবাননেও হামলা চালায়। এ অঞ্চলের বৃহত্তম শহর সিডনে অভিযান চালিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সিডনে ইসরায়েলের হামলায় পাঁচজন নিহত এবং সাতজন আহত হন। দক্ষিণ টায়ার ও বিনতে জ্বাইল শহরের ওপর ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলোর খবরও দিয়েছে এনএনএ।

বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠ ছেড়ে যাওয়ার জন্য ইসরায়েল বাসিন্দাদের হুমকি দেওয়ার এক দিনেরও কম সময়ের মধ্যে হিজবুল্লাহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো খালি করতে বলেছে। বৈরুতের পাশে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা দাহিয়েহ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। প্রায় ৫০ লাখ মানুষ ওই এলাকা ছেড়েছেন। 

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সর্বশেষ ঘোষিত হামলার আগে তারা দাহিয়েতে ২৬ দফা হামলা চালায়। তাদের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত বিভিন্ন অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে আছে গ্রুপের নির্বাহী পরিষদের সদরদপ্তর ও একটি গুদাম। হিজবুল্লাহ বলছে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস এবং বাস্তুচ্যুতির অভিযান এসবের কিছুই চ্যালেঞ্জের বাইরে থাকবে না। হিজবুল্লাহ গত শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলের স্থল বাহিনীর ওপর হামলার দায় স্বীকার করেছে। সম্প্রতি তারা লেবাননের ভূখণ্ডে প্রবেশকারী সেনাদের লক্ষ্যে পরিণত করছে। টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, তাদের যোদ্ধারা লেবাননের ভূখণ্ডের মধ্যে মারুন আল-রাস, কফার কিলাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, হিজবুল্লাহ অধিকৃত গোলান হাইটসে ইসরায়েলের ইয়াভ সামরিক শিবির এবং ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে একটি নৌঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা তাদের সীমান্তবর্তী শহরগুলো খালি করবে না এবং লেবাননে আরও সেনা পাঠাবে। অপরদিকে ইসরায়েলের হুমকির পর লেবাননের কয়েক হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। এনএনএ জানায়, বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির ব্যাপক সংখ্যক লোকের বাস্তুচ্যুতির কারণে এলাকাটি ‘প্রায় খালি’ হয়ে গেছে। শত শত বাস্তুচ্যুত পরিবারকে বৈরুতের সমুদ্রসৈকতে আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।  খবর : এএফপি

 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/160136