বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা
দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : দুপচাঁচিয়া উপজেলায় মুসলমানদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমে উঠেছে ঈদের কেনাবেচা। ঈদ যত কাছাকাছি আসছে মার্কেটগুলোতে ততই ক্রেতার ভিড় বাড়ছে। ঈদের এই কেনা-কাটায় নারীরাই এগিয়ে। ক্রেতা, বিক্রেতার শরগোলে জমজমাট হয়ে উঠেছে পুরো উপজেলা। মার্কেটগুলো সহ প্রতিটি দোকানেই বইছে ঈদের হাওয়া।
বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে দুপচাঁচিয়া একটি উল্লেখযোগ্য। ব্যবসা-বাণিজ্য সমাদৃত এই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব ভাল হওয়ায় সব দিক দিয়ে সকলের দৃষ্টি কেড়েছে। এই উপজেলার অধীনেই রয়েছে দুপচাঁচিয়া ও তালোড়া দুইটি পৌরসভা।
উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে উত্তরে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর, ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলা, দক্ষিণে বগুড়ার নন্দীগ্রাম, পূর্বে কাহালু এবং পশ্চিমে আদমদিঘী উপজেলার চাঁপাপুর, কুন্দুগ্রাম, নশরৎপুর ও নওগাঁ জেলার রাণীনগর অবস্থিত।
উপজেলা সদরের পাশে উল্লেখিত উপজেলাগুলোর অবস্থান হওয়ায় এই সব উপজেলার সকল শ্রেণীর মানুষ তাদের ব্যবসা-বানিজ্য, কেনা-কাটা, ব্যাংক-বীমা, চিকিৎসা সেবা, লেখা-পড়াসহ নৈমিত্তিক সকল কাজেই এই দুপচাঁচিয়া উপজেলার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। জেলা শহরের সাথে পাল্লা দিয়ে গড়ে উঠেছে প্রায় ডজন খানিক অত্যাধুনিক বিপনী বিতান ও মার্কেট।
ঈদকে সামনে রেখে বিপণিবিতান ও দোকানগুলোতে বাহারি ডিজাইন আর মডেলের পোশাক শোভা পাচ্ছে । দুপচাঁচিয়াসহ আশেপাশের উল্লেখিত উপজেলার মানুষগুলো ঈদকে সামনে রেখে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র কেনা-কাটার জন্য জেলা শহরে না গিয়ে এই সব মার্কেটগুলোতেই ভিড় করছে। সব শ্রেনীর দোকানেই নেমেছে ক্রেতার ঢল।
এ ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নারীরাই এগিয়ে। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন চেয়ারম্যান মার্কেটের কলেজ ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মুক্তার হোসেন জানান, এবছর রমজানের শুরু থেকে মার্কেটগুলোতে বেচা-কেনা শুরু হয়েছে। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে মার্কেটগুলোতে ভিড় ততই বাড়ছে। বেচা-কেনাও বেশ ভালো হচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মার্কেটগুলোতে কেনাবেচা চলছে।
গ্রাম থেকে কেনাকাটা করতে আসা একজন নারী ক্রেতা জানান, তারা বেশিরভাগ সময় গৃহবন্দি থাকে। অনেক সময় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না কিনে তারা অপেক্ষা করেন ঈদের মার্কেট করার জন্য। বছরের অন্য সময়ে তেমন মার্কেটে না এলেও ঈদের মার্কেটে আসার জন্য পারিবারিক ভাবে সমর্থনও থাকে। তারা আরো বলেন, এবারের দেশি পোশাকের পাশাপাশি বিদেশি পোশাকও মিলছে।
তবে দাম একটু বেশি। বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবির চাহিদাও রয়েছে। তবে এসব পোশাক ২ হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ছোটদের পোশাকেও রয়েছে ভিন্নতা। উপজেলার নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা তানিয়া আক্তার, ফেরদৌসী রহমান, শারমিন সুলতানা সহ অনেকেই জানান, তারা নিজের পাশাপাশি পরিবারের পুরুষদের জন্য পছন্দ করে কাপড়চোপড় ও অন্যান্য জিনিসপত্র কিনতে মার্কেটে এসেছে।
তারা আরও জানান, পরিবারের পুরুষরা নিজেদের চেয়ে নারীদের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। থানা অফিসার ইনচার্জ আফজাল হোসেন জানান, বাজার মনিটরিং এবং ক্রেতা সাধারনের সুবিধার্থে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/160089