পাবনার ভাঙ্গুড়ায় দেড়শতাধিক বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি খালে ব্যক্তিরাস্তা নির্মাণ করায় দেড়শতাধিক বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের (অব.) নিরীক্ষণ কর্মকর্তা আনসার আলী তার ব্যক্তিগত খামারে যেতে এই রাস্তা নির্মাণ করেছেন।
ফলে পাথরঘাটার বেড়ের বিল এলাকার প্রায় দেড়শ’ বিঘা জমিতে পুনরায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত বছর গ্রামবাসীর লিখিত অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আদেশে পানি নিষ্কাশনের জন্য এই খাল খনন করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।
গ্রামবাসী জানায়, উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের বেড়ের বিল এলাকা থেকে পাথরঘাটা মাঠ পর্যন্ত প্রায় ৫শ’ মিটার সরকারি খাল রয়েছে। এই খালের মুখে একটি অপরিকল্পিত কালভার্ট ছিল। ফলে খালটি ভরাট হয়ে যায়। এছাড়া আনসার আলীসহ অনেকেই খালের দুই পাশ দিয়ে দখল করায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বছরের অর্ধেক সময় বেড়ের বিল এলাকার প্রায় দেড়শ’ বিঘা জমি জলাবদ্ধ থাকায় চাষাবাদ করতে পারেননি কৃষকরা।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে গ্রামের অর্ধশত কৃষক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে সরেজমিনে তদন্ত করেন তিনি। পরে গত বছর অপরিকল্পিত কালভার্ট ভেঙে নতুন কালভার্ট তৈরি করে খালটি খনন করা হয়। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আনসার আলী আবারও তার খামারে যাতায়াতের জন্য প্রায় ২৫ ফুট প্রশস্ত খালের মুখে ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করছেন। আর পানি প্রবাহের জন্য রাস্তার মাঝখানে চার ফুট ইউ ড্রেন তৈরি করছেন। এলাকাবাসী জানান, নির্মিত এই ইউ ড্রেন পানি প্রবাহের জন্য যথেষ্ট নয়।
এ বিষয়ে সাবেক সরকারি কর্মকর্তা আনসার আলী জানান, সরকারি জায়গা অন্যরা ভরাট করেছে। তিনি তার জায়গায় কাজ করছেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, এই খাল রক্ষা ও পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে পূর্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তাই এখন তিনি নির্দেশনা দিলে ব্যবস্থা নিতে পারব।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাপস পাল বলেন, লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।