অ্যালেনের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরিতে আফ্রিকাকে উড়িয়ে ফাইনালে নিউজিল্যান্ড
স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের নকআউট মানেই যেন দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে একরাশ হতাশা। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। সেমিফাইনালে কিউই ওপেনার ফিন অ্যালেনের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরিতে পাত্তাই পেল না প্রোটিয়ারা। বোলারদের রীতিমতো তুলোধুনো করে ৪৩ বল হাতে রেখেই ৯ উইকেটের বড় জয় তুলে নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল নিউজিল্যান্ড।
বুধবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই প্রোটিয়া বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালান নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট। এই দুজনের উদ্বোধনী জুটির ঝড়েই উড়ে যায় প্রোটিয়াদের শিরোপা স্বপ্ন। সেইফার্ট দুর্দান্ত এক ফিফটি করে আউট হলেও, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড গড়ে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন অ্যালেন। মাত্র ১২.৫ ওভারেই ১ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রান তুলে রাজকীয়ভাবে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কিউইরা।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা শুরু থেকেই ছিল অস্বস্তিতে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই বল হাতে ভেলকি দেখান কিউই অফ স্পিনার কোল ম্যাকনকি। দলীয় ১০ রানের মাথায় কুইন্টন ডি কককে ফেরানোর ঠিক পরের বলেই রায়ান রিকেলটনকে সাজঘরের পথ দেখান তিনি।
শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার আগেই ৩ রানের মাথায় লকি ফার্গুসনের বলে মিডউইকেটে রাচিন রবীন্দ্রর হাতে জীবন পান প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করাম। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। দলীয় ৫৫ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ১৮ রানে সেই রাচিনের বাঁহাতি স্পিনেই কাটা পড়েন তিনি। অন্যদিকে, মাত্র ৩ রানের মাথায় গ্লেন ফিলিপসের কল্যাণে ক্যাচ ড্রপের সুযোগ পেলেও ডেভিড মিলার ফিরেছেন ৬ রানে। একপ্রান্তে ঝড় তোলার ইঙ্গিত দেওয়া ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকেও (৩৪) থামিয়ে দেন জিমি নিশাম। ১০.২ ওভারে মাত্র ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে পথ হারানোর শঙ্কায় পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।
খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন ট্রিস্টান স্টাবস ও মার্কো জানসেন। ষষ্ঠ উইকেটে এই দুজনের ৭৩ রানের দারুণ এক জুটিতে ম্যাচে ফেরে প্রোটিয়ারা। ২৯ রান করা স্টাবসকে বোল্ড করে এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন ফার্গুসন। স্টাবস টিকে থাকলে স্কোর হয়তো আরও বড় হতো। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে তাণ্ডব চালিয়ে যান জানসেন। শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় ৫৫ রানে অপরাজিত থেকে দলের স্কোরকে ১৬৯ রান পর্যন্ত টেনে নেন এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে বল হাতে রাচিন রবীন্দ্র, ম্যাট হেনরি ও কোল ম্যাকনকি প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট শিকার করেন। এছাড়া লকি ফার্গুসন ও জেমস নিশামের ঝুলিতে যায় একটি করে উইকেট।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/159867