ভূমধ্যসাগরে পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে ফ্রান্স
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ক্রমবর্ধমান উত্তজনা নিরসনে এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজেদের শক্তিশালী পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘শার্ল দ্য গোল’ ভূমধ্যসাগরে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দেন। ম্যাক্রোঁ জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেছে এবং সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগরের নৌপথগুলো চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাণিজ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখতে ফ্রান্স একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ তার ভাষণে স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা ফ্রান্সের অর্থনৈতিক স্বার্থের পরিপন্থী। তিনি বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে হবে, কারণ এই যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করতে ফ্রান্স ইতিমধ্যে সাইপ্রাসে একটি ফ্রিগেট পাঠিয়েছে এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মিত্র দেশগুলোর আকাশে হানা দেওয়া একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। এসব অভিযানে ফরাসি বিমানবাহিনীর ‘রাফাল’ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ম্যাক্রোঁ জানান, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে তাদের দৃঢ় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে আরব আমিরাত বর্তমানে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ায় ফ্রান্স তাদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ফরাসি নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়ে তিনি জানান, যারা ওই অঞ্চল ছাড়তে চান তাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্যারিসে দুইটি বিশেষ ফ্লাইট পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার খাতিরে ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট একটি ভারসাম্যপূর্ণ কিন্তু কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, চলমান পরিস্থিতির জন্য ইরান প্রাথমিক দায়ভার বহন করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে তা আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে পরিচালিত হয়েছে।
ম্যাক্রোঁ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে; এগুলো আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করে পরিচালিত হয়েছে, যা আমরা অনুমোদন করতে পারি না। ফ্রান্স যেকোনো মূল্যে সংঘাত নিরসনে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি পুনরায় অঙ্গীকার করেন। সূত্র : রয়টার্স
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/159751