বগুড়া শহরের চাঁদনী বাজার এলাকায় বহাল তবিয়তে রেল ঠিকাদারের নির্মাণ সামগ্রী
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া শহরের চাঁদনী বাজার মোড় এবং ১নং রেলগুমটি এলাকায় রেল ঠিকাদারের নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা ঘটনার মাস পেরিয়ে গেছে। বিষয়টি জনদুর্ভোগে পরিণত হলেও যেন দেখার কেউ ছিল না। তবে গত ১ মার্চ বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বাজার তদারকি এবং ফুটপাত অবৈধ দখল মুক্ত করতে এসে বিষয়টি নজরে নেন।
তৎক্ষণাত জেলা প্রশাসক রেলওয়ে বগুড়ার ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (কার্য) আসলাম হোসেনকে ২ মার্চ সোমবার দুপুরের মধ্যে এসব নির্মাণ সামগ্রী অপসারণে আল্টিমেটাম দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রেলের ওই কর্মকর্তা। তবে জেলা প্রশাসকের ওই আল্টিমেটামও উপেক্ষিত। অদৃশ্য শক্তিবলে শহরের ব্যস্ত জায়গাগুলোতে বহাল তবিয়তে এসব নির্মাণ সামগ্রী।
এমনিতেও সারা বছর দখল-দূষণে বাজে অবস্থায় থাকে শহরের ব্যস্ততম ও বাণিজ্যিক জায়গাটি। তার ওপর দখলদারদের পোয়াবারো হয় জায়গাটিতে রেল ঠিকাদারের নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখায়। নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রেখে আরও ভোগান্তি বাড়ানো হয়েছে ১নং রেলগুমটি এলাকাতেও। মাসাধিককাল ধরে রেলের ড্রেন নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে। চাঁদনী বাজার এলাকায় বস্তায় করে পাথর ও বালু রাখার পাশাপাশি বিশাল একটি অংশে পাথর ও বালু স্তুপ করে রাখা হয়েছে।
এতে করে সংকীর্ণ হয়েছে সড়ক। পাশাপাশি এখানে দীর্ঘদিন ধরে যারা অবৈধভাবে সড়ক দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন তারা পাথর-বালুর স্তুপের ওপর স্থায়ীভাবে দোকান বসিয়ে নির্বিঘ্নে তাদের কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। পাথর-বালুতে রাস্তার বড় একটি অংশ ব্যবহার করতে না পারায় এলাকায় যানজট ও দুর্ভোগ বেড়েছে কেনাকাটা করতে আসা মানুষের।
এ ব্যাপারে রেলওয়ে বগুড়ার ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (কার্য) আসলাম হোসেন জানিয়েছিলেন, বার বার বলার পরেও ঠিকাদার সড়ক দখল করে রাখা নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নিচ্ছেন না। তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও তিনি জনভোগান্তির ব্যাপারে কোন গুরুত্ব কর্ণপাত করছেন না।
তিনি আরও জানিয়েছিলেন, গত রোববার জেলা প্রশাসক ফোনে তাকে এসব নির্মাণ সামগ্রী সোমবার দুপুরে মধ্যে সড়ক থেকে সরাতে আল্টিমেটা দেন, অন্যথায় তা নিলামে তোলা হবে বলেও জানান। রেলের এই কর্মকর্তা সেই বার্তা ঠিকাদারকে জানিয়েও দেন বলে জানান তিনি।
তবে সড়ক দু’টিতে নির্মাণ সামগ্রী থাকলেও ঠিকাদার নিজ দায়িত্বে এসব সরিয়ে নেননি, আবার জেলা প্রশাসনও জনভোগান্তি দূর করতে নেয়নি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান আবারও এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/159700