কুড়িগ্রামে মেধাবী আকাশের কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন ৮ লাখ টাকা
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী আকাশের দুটো কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে বেঁচে আছেন তিনি। দিনমজুর পরিবারের পক্ষে মাসে ৫০ হাজার টাকার চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে নিঃস্ব প্রায় পরিবারটি। এরইমধ্যে কিডনী প্রতিস্থাপনে নিজের বোনের সাথে সবকিছু মিলে গেলেও টাকার অভাবে আটকে আছে সকল কাজ। কিডনী প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন ৮ লাখ টাকা।
জেলার পৌর এলাকার সর্দারপাড়া গ্রামের দিনমজুর হোসেন আলীর ছেলে মো. আকাশ। প্রতিবেশী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর দু’টো কিডনি বিকলের ঘটনা ধরা পরে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে।
এরপর তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। একই বছরের ডিসেম্বর থেকে তাকে ডায়ালাইসিস করানো হয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ১৮০টি ডায়ালাইসিসে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে মাথা গোঁজার ৮ শতক জমির মধ্যে ৪ শতক জমি বিক্রি করে দিয়েছে পরিবারটি। আকাশের বাবা হোসেন আলী হার্টের রোগী হওয়ায় তার কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু পরিবারটি আকাশের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছে না।
ঢাকার সিকেডি এন্ড ইউরোলজি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. বাহারুল ইসলামের তত্বাবধানে আকাশের কিডনী প্রতিস্থাপনে তার বোনের কিডনির সাথে মিললেও কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে না পারায় থমকে গেছে চিকিৎসা কার্যক্রম।
আকাশের বড় ভাই আল আমিন জানায়, ছোট ভাইয়ের চিকিৎসা খরচ মেটাতে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন প্রতিমাসে ১০টি ডায়ালাইসিসে ৫০ হাজার টাকা লাগছে। এছাড়াও বোনের কিডনি মিলে যাওয়ায় প্রতিস্থাপনে অপারেশন, ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে প্রায় ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন। যা আমাদের পক্ষে ব্যয় করা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে আকাশ আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।
আকাশ জানান, পরিপূর্ণভাবে বাঁচতে কিডনি প্রতিস্থাপন করা জরুরি। আমার চিকিৎসায় পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। আমি বাঁচতে চাই। যারা যাকাত দিচ্ছেন তারাসহ দেশের বিত্তবান ও প্রবাসী ভাইদের কাছে অনুরোধ করছি, আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে আমাকে বাঁচতে দিন। আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাই।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/159698