বগুড়ার নন্দীগ্রামে খড়ের পালায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে

বগুড়ার নন্দীগ্রামে খড়ের পালায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার নন্দীগ্রামে প্রতিবছর কমবেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে এবার শুস্ক মৌসুমে খড়ের পালায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। খড়ের উচ্চ বাজার মূল্যকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হচ্ছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ।

এতে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে, অন্যদিকে তীব্র হচ্ছে গো-খাদ্য সংকট। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা খড়ের পালায় আগুন দিচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। ক্ষতিগ্রস্তদের সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে উপজেলায় অন্তত ১৯টি খড়ের পালায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ছোট-বড় এসব ঘটনায় আনুমানিক সাত লক্ষাধিক টাকা ক্ষতি হয়েছে।

কোথাও অসাবধানতাবশত আগুন লাগলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুর্বৃত্তদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের ভর মাঝগ্রামে শুকবর তালুকদারের ছেলে গোলাম মোস্তফার ১শ মন ধান ও ৬০ বিঘা জমির ৫টি খড়ের পালায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে আনুমানিক চার লাখ টাকা ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক গোলাম মোস্তফা।

তিনি জানান, কে বা কারা শত্রুতামূলকভাবে এ অগ্নিসংযোগ করে। এবিষয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন। এরপর চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি দিবাগত রাতে উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের চাকলমা গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকার কৃষক আমিনুল ইসলাম, মোকসেদ আলীর ও ইসমাইল হোসেনের ৫টি খড়ের পালায় আগুনদেয় দূর্বৃত্তরা।

এতে আনুমানিক দুই লাখ টাকা ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। তারপর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের পেং হাজারকি হুসিয়ার পাড়া গ্রামের কৃষক ফিরোজ আহম্মেদের ১৪ বিঘা জমির তিনটি খড়ের পালায় আগুনদেয় দূর্বৃত্তরা। এতে আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ফিরোজ আহম্মেদ।

এছাড়াও গত ১ মার্চ রাত ৯টার দিকে উপজেলার নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়নের কামালকুড়ি গ্রামে কৃষক মহসিন আলীর তিনটি খড়ের পালা আগুনে ভূস্মিভুত হয়। এতে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মহসিন আলী।

অপরদিকে একই রাতে ভাটগ্রাম ইউনিয়নের কাথম গ্রামে এক কৃষকের একটি খড়ের পালা আগুনে ভূস্মিভুত হয়। এবং গত ২ মার্চ রাতে উপজেলার নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়নের ভাগশিমলা গ্রামে কৃষক শাহিনুর রহমানের দুইটি খড়ের পালায় আগুনদেয় দূর্বৃত্তরা। এতে আনুমানিক ৬০ হাজার টাকা ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শহিনুর রহমান।

বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন কৃষকরা। অনেকেই এখন খড়ের পালার পাশে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। তবুও দুর্বৃত্তদের তৎপরতা থামছে না। স্থানীয়রা বলছেন, রাতের বেলা পুলিশ টহল জোরদার না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে। নন্দীগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা সেলিম হোসেন জানান, সারা বছরের অর্ধেকেরও বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শীত মৌসুমেই ঘটে। চলতি শুষ্ক মৌসুমে আগুনের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে বাড়তি সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, শুষ্ক আবহাওয়ায় খড় অত্যন্ত দাহ্য হয়ে ওঠে। সামান্য অসাবধানতা থেকেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বসতঘর ও রান্নাঘর থেকে নিরাপদ দূরত্বে খড়ের পালা দিতে হবে। এবং খড়ের পালার আশপাশে ধূমপান না করা এবং আগুনের কোনো উৎস না রাখা জরুরি। এছাড়াও সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে জানাতে হবে।

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, খড়ের পালায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগগুলো পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক কোনো ঘটনা পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি তিনি কৃষক ও স্থানীয়দের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগুন প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/159685