জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল
গণভোট ও এর ফলাফল, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার অধ্যাদেশ ২০২৫) বাস্তবায়ন আদেশ ও এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের চিঠি এবং গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
এসব বিষয়ে করা পৃথক দুটি রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রিটকারীর আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। এর আগে, রিটগুলোর ওপর সোমবার (২ মার্চ) শুনানি নিয়ে এ ব্যাপারে আদেশের জন্য আজ দিন ঠিক করেন হাইকোর্ট বেঞ্চ।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জেরে ওই বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ও দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ সই হয়। একই বছরের ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই জাতীয় সনদ।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গণভোট হয়। সংস্কার সম্পর্কিত কতিপয় প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য গণভোটের বিধান প্রণয়নে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করা হয়। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান-ই-খোদা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি রিট করেন।
এছাড়া, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যের শপথের জন্য গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দেওয়া চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম ১৭ ফেব্রুয়ারি অপর রিটটি করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/159581