নির্বাচনে কারচুপির পরেও সংসদে যাবে জামায়াত: পরওয়ার
সরকার ও বিরোধীদল সমন্বিতভাবে একে অপরকে সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন ধারার রাজনীতি গড়ে তুলে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাই নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপির পরও জামায়াতে ইসলামী ফলাফল মেনে সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (০২ মার্চ) বিকেলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল আয়োজিত ‘যাকাত ও রমাদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংঘাত-সহিংসতা চায় না।
আমরা দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। জামায়াতের লক্ষ্য হচ্ছে সরকার ও বিরোধীদল সমন্বিতভাবে একে অপরকে সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন ধারার রাজনীতি গড়ে তুলে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। তাই নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপির পরও জামায়াতে ইসলামী ফলাফল মেনে সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা সারা দেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে।
জামায়াতের নেতাকর্মী, এমনকি ভোটারদের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। এত সহিংসতার পরও জামায়াত পাল্টা জবাব না দিয়ে সংযত থেকে সরকারকে বারবার সহিংসতা বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, সরকার নিজ দলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হতে পারে। তাই সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, বাংলাদেশ এক অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে এসেছে। দেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে বিচার অঙ্গনে এমন বিপর্যয় পৃথিবীর আর কোথাও হয়েছে বলে জানা নেই। তবে এই বিচারব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একটি পথ তৈরি হয়েছে। সভ্য জাতিতে রূপান্তরিত হতে হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আজ বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্নীতি বন্ধ করা।
দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে খোদাভীরু নেতৃত্বের বিকল্প নেই। রমজান মাস ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে পরিশুদ্ধ করার মাস। তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমেই কেবল দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/159568