ইফতারে দই-চিড়া খেলে কি যথেষ্ট পুষ্টি পাওয়া যায়?
ইফতারের টেবিলে দই-চিড়া একটি পরিচিত ও আরামদায়ক খাবার। হালকা, ঠান্ডা এবং সহজপাচ্য বলে অনেকেই রোজা ভাঙেন এই খাবার দিয়ে। কিন্তু প্রশ্ন হলো - শুধু দই-চিড়া খেলে কি শরীর সারাদিনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়?
চলুন দেখা যাক এতে কী কী আছে -
চিড়া মূলত চাল থেকে তৈরি, তাই এটি কার্বোহাইড্রেটের ভালো উৎস। রোজার পর শরীরের গ্লুকোজের ঘাটতি দ্রুত পূরণে এটি সাহায্য করে। অন্যদিকে দইয়ে থাকে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া, যা হজমে সহায়ক এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এই দুইয়ের সংমিশ্রণ শরীরকে দ্রুত শক্তি দেয় এবং পেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে না।
তবে পুষ্টির ভারসাম্যের দিক থেকে দেখলে, শুধু দই-চিড়া সম্পূর্ণ খাবার নয়। এতে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের পরিমাণ খুব সীমিত। আবার মিষ্টি দইতে থাকে প্রচুর চিনি। সারাদিন রোজার পর শরীরের প্রয়োজন হয় পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও তরল। তাই শুধু এক বাটি দই-চিড়া খেলে দীর্ঘমেয়াদে পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে, বিশেষ করে যদি অন্য কোনো পুষ্টিকর উপাদান যোগ না করা হয়।
তাহলে কী খাবেন?
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, দই-চিড়াকে আরও সমৃদ্ধ করতে এতে ফল (যেমন কলা, আপেল বা পেঁপে), বাদাম বা চিয়া সিড যোগ করা যেতে পারে। এতে ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও অতিরিক্ত ভিটামিন যুক্ত হবে। পাশাপাশি ইফতারে পর্যাপ্ত পানি বা লেবু-পানি রাখা জরুরি, যাতে ডিহাইড্রেশন কমে।
যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের ক্ষেত্রে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। চিড়া উচ্চ গ্লাইসেমিক কার্বোহাইড্রেট হওয়ায় রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়াতে পারে। তাই দইয়ের সঙ্গে প্রোটিন ও ফাইবার যোগ করলে রক্তে শর্করার ওঠানামা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সেই সঙ্গে মিষ্টি দইয়ের বদলে টকদই যোগ করুন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, দই-চিড়া ইফতারের জন্য ভালো শুরু হতে পারে, তবে একে একমাত্র খাবার হিসেবে না রেখে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ করা উচিত। পুষ্টিতে ভারসাম্যই রোজার স্বাস্থ্যরক্ষা কৌশলের মূল চাবিকাঠি।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/159472