ঢাবির  ইফতার মেন্যুতে গরুর মাংস না থাকায় হল সংসদ নেতাদের বয়কট ঘোষণা

ঢাবির  ইফতার মেন্যুতে গরুর মাংস না থাকায় হল সংসদ নেতাদের বয়কট ঘোষণা

ঢাবি প্রতিনিধি: বার্ষিক হলভিত্তিক ইফতার ও রাতের খাবারের মেন্যুতে গরুর মাংস অন্তর্ভুক্ত না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ইফতার কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল সংসদের  বিভিন্ন হলের নেতারা। শিক্ষার্থীদের “ন্যায্য দাবি” উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তারা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

হল সংসদ নেতাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্য বিবেচনায় না এনে আয়োজিত ইফতার মেন্যু থেকে গরুর মাংস বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের শামিল। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তারা একযোগে ইফতার বয়কটের ডাক দিয়েছেন।

 টোকেন ফেরত দেওয়ার আহ্বান: শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ভিপি আহসান হাবিব ইমরোজ বলেন, যেসব শিক্ষার্থী ইফতারের টোকেন সংগ্রহ করেছেন, তারা যেন নির্ধারিত সময়ে হলভিত্তিকভাবে একযোগে টোকেন ফেরত দেন। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের মতামতকে মূল্যায়ন না করে আয়োজন করা এই প্রহসনের ইফতার বয়কট করুন। প্রয়োজনে আমরা নিজেরা অর্থ সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে ইফতার করব।”

জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীরা আগামীকাল দুপুর ১২টায় একযোগে টোকেন ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

 বিভিন্ন হলের নেতাদের ইফতার বয়কটের ডাক:

শেখ মুজিবুর রহমান হলের জিএস আহমেদ আল সাবাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে বার্ষিক ইফতার আয়োজনে গরুর মাংস অন্তর্ভুক্ত না করায় তারা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. মুনিম বলেন, “শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা এ ধরনের হীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং উক্ত ইফতার অনুষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে বয়কট করছি।”

অমর একুশে হলের জিএস রবিউল ইসলাম জানান, আগামী ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত হল ইফতার কর্মসূচি তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বয়কট করছেন। শিক্ষার্থীদের দাবিকে উপেক্ষা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিজয় একাত্তর হলের জিএস আশিক বিল্লাহ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “এই দায়সারা আয়োজন বয়কট করে প্রশাসনের অসহযোগিতা ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিন।”

এদিকে মুহসীন হলের সমাজসেবা সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহ অভিযোগ করেন, প্রতিবছর হলগুলোর ইফতারে গরু বা খাসির মাংস দেওয়া হলেও এ বছর দাবি জানানোর পরও তা আমলে নেয়নি প্রশাসন। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের অধিকারের সঙ্গে তামাশা করা হয়েছে। গরু বা খাসির বদলে মুরগির মাংস রাখা হয়েছে।”

প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি: এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের একাংশ বলছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে বয়কট কর্মসূচি আরও বিস্তৃত হতে পারে।
হল সংসদ নেতারা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে মেন্যু পুনর্বিবেচনা না করা হলে তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/159409