বগুড়ার সোনাতলায় লাভজনক ফসল ভুট্টা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে

বগুড়ার সোনাতলায় লাভজনক ফসল ভুট্টা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার সোনাতলায় লাভজনক ফসল ভুট্টা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট উপজেলায় চলতি বছর ৬শ’ ৮০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। যা গত বছর ছিল ৬শ’ ৫০ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় এবার ৩০ হেক্টর জমিতে বেশি ভুট্টা চাষ হয়েছে।

তবে স্থানীয় কৃষকরা বলছেন অন্য কথা। উপজেলা কৃষি বিভাগ কাগজ আর কলমে ৬৮০ হেক্টর ভুট্টার ফসল দেখালেও বাস্তবে তার উল্টো। কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যানের চেয়ে মাঠ পর্যায়ে ৩ গুন ভুট্টা বপন করেছে কৃষক। এটি একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় দিন দিন এ ফসলের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে কৃষক। উপজেলার বিভিন্ন স্থানের উচু নিচু জমিতে ভুট্টার ব্যাপক চাষাবাদ করা হচ্ছে। এটি মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুকে খাওয়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভুট্টার জমিতে জৈব সার গোবর, ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি এবং জিংক সালফেট ব্যবহার করতে হয়। খরিফ মৌসুমে ফাল্গুন থেকে মধ্য চৈত্র (মধ্য ফেব্রুয়ারী থেকে মার্চ) পর্যন্ত সময় বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। বীজ গজানোর ২৫-৩০ দিন পর এবং ৪০ - ৫০ দিন পর সার প্রয়োগ করতে হয়।

চারা গজানোর ৩০ দিনের মধ্যে জমি থেকে অতিরিক্ত চারা তুলে ফেলতে হয়। চারার বয়স ১ মাস না হওয়া পর্যন্ত জমি আগাছামুক্ত রাখতে হয়। এই অঞ্চলের কৃষক হাইব্রীড ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ভুট্টা চাষ করে বেশি। ভুট্টা গাছের মোচা ৭৫ থেকে ৮০% পরিপক্ক হলে ভুট্টা সংগ্রহ করতে হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, ভুট্টা একটি লাভজনক দানা ফসল। এটি মুলত বেলে দো’আঁশ মাটিতে ভালো হয়। এটি রবি মৌসুমে (অক্টোবর-নভেম্বর) বীজ বপন করার উপযুক্ত সময়। প্রতি হেক্টরে ২৫-৩০ কেজি বীজ প্রয়োজন। একটি চারা থেকে অন্য চারার দুরত্ব হয় ২০ সেন্টিমিটার দুরত্ব।

ভুট্টা একটি অর্থকরী ফসল। এই ফসলের উৎপাদন অনেক বেশি। এটি ফসল বপনের ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মাথায় কলা ধরে। এরপর তা পরিপক্ক হতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে। প্রতি বিঘা জমিতে ৪০ থেকে ৪২ মণ ভুট্টা উৎপন্ন হয়। প্রতি মণ ভুট্টা ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা মণে বিক্রি হয়।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/159368