বগুড়ায় মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ জনজীবন

বগুড়ায় মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ জনজীবন

হাফিজা বিনা : দিনে করকরে রোদ উঠলেও রাতে গায়ে এখনও মোটা কাপড় জড়াতে হচ্ছে। এই আবহাওয়ার মধ্যেই বগুড়ায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বেশি সমস্যায় পড়েছেন পরীক্ষার্থী ও রোজাদার।

বিকেলের পর থেকেই শিক্ষার্থীরা মশারি টাঙিয়ে পড়ালেখা করছেন ও বয়স্ক মানুষ রমজানের ইবাদত-বন্দেগি করছেন। অন্যদিকে অতিত অভিজ্ঞতা থেকে ডেঙ্গুর আশঙ্কাও করছেন সবাই। এ অবস্থায় এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ বগুড়া পৌরসভার বিরুদ্ধে। এদিকে মশা নিধন কার্যক্রম চলমান আছে দাবি কর্তৃপক্ষের।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর শীত মৌসুমের শেষের দিক থেকে শহরতো বটেই গ্রামেও মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত প্রায় দুই সপ্তাহে বগুড়ায় ব্যাপকভাবে মশা বেড়েছে। মশার প্রজনন রোধ করতে না পারার কারণে মশার বংশ বিস্তার বেশি হচ্ছে বলে তাদের ধারণা।

মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ বগুড়া জামিল নগর এলাকার গৃহিনী নার্গিস বেগম জানান, তার মেয়ে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। ছোট ছেলে-মেয়ে প্রাইমারিতে পড়ে। দু’জনই বিকেলের পর থেকে মশারির মধ্যে বসে পড়ালেখা করছে।

আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তিনি আরও একটা বড় মশারি কিনেছেন ইফতার করার জন্য, যার ভেতরে বসে সবাই ইফতার করবেন এবং নামাজ পড়বেন। তিনি বলেন, শীত মৌসুমের শেষের দিকে মশার উপদ্রব বাড়ার বিষয়টি সবাই জানেন। কিন্তু সারাদিন রোজা রেখে ইফতারের সময় ঝাকেঝাকে মশা এসে পড়ে শরীরে, খুবই অস্বস্তি হয়। মশার প্রজনন মৌসুমে পৌরসভা কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করছে না।

দুপুরের পর থেকেই কোত্থেকে যে মশা এসে ঘরের আনাচে-কানাচে ঘাপটি মেড়ে থাকে তা জানি না। মশার কয়েল না জ্বালালে ঘরে-বাইরে টেকা দায় হয়ে পড়ে। মশার কয়েল জ্বালাবেন সে উপাই নেই, ঘরে অ্যাজমা রোগী আছে। আবার ধোঁয়া ছাড়া কয়েল এবং মশা নিধন স্প্রে’র দামও অনেক বেড়েছে। সবার পক্ষে তা কেনা সামর্থের বাইরে বলে জানান শহরের চেলোপাড়া এলাকার আনিসুর রহমান।

তিনি আরও জানান, শহরের এমাথা থেকে ওমাথা পর্যন্ত বিশাল বিশাল অট্টালিকা ওপরে উঠলেও  নাগরিক সুবিধা নেই পৌরবাসীর। প্রতি মাসে অন্তত একবার পুরো শহরে  মশা নিধনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত পৌরসভার। সেখানে গত ৬/৭ মাসে এধরণের কোন কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

এ ব্যাপারে পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে পৌর এলাকার মশা নিধনের জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানোর জন্য ২৪টি ফগার মেশিন রয়েছে। মশা নিধন কার্যক্রমে প্রতি ওয়ার্ডে দুই লিটার করে ওষুধ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওষুধ প্রয়োগের জন্য ওয়ার্ডপ্রতি ২শ’ লিটার ডিজেল ও ২৫ লিটার অকটেন বরাদ্দ রয়েছে।

পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কারের জন্য প্রতি ওয়ার্ডে ১০ কেজি ব্লিচিং পাউডার ও পাঁচ কেজি ডিটারজেন্ট পাউডার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, মশা নিধনে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হয়। শীতকালে মশা কম থাকায় নভেম্বর থেকে ওষুধ প্রয়োগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। তারপর থেকে মশার লার্ভা যেখানে জন্মায় সেসব ড্রেনে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এখন প্রতিটি ওয়ার্ডে মশার ওষুধ ছিটানো হবে। এতে মশার উপদ্রব কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/159241