বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে নাব্য সংকটে পণ্য পরিবহনে সম্বল ঘোড়ারগাড়ি

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে নাব্য সংকটে পণ্য পরিবহনে সম্বল ঘোড়ারগাড়ি

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : সারিয়াকান্দির যমুনা নদীতে নাব্য সংকট প্রকট হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চলে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবহনের একমাত্র সম্বল হয়ে উঠেছে ঘোড়ারগাড়ি। অতিরিক্ত ভাড়ায় কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। দুর্গম চরাঞ্চলে পরিবহনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা চান চরবাসী।
গত ডিসেম্বর মাস থেকেই বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা নদীতে নাব্য সংকট বিরাজমান রয়েছে।

কয়েকমাসের ব্যবধানে যমুনার পানি একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে এবং এ সংকট দিনদিন চরম আকার ধারণ করছে। ফলে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের সম্পূর্ণসহ আটটি ইউনিয়নের আংশিক এলাকায় ধু ধু বালুচরের সৃষ্টি হয়েছে। এসব বালুচরে কোনপ্রকার যানবাহন চলাচল করছে না।

ফলে উপজেলার কৃষকেরা তাদের কৃষিপণ্য পরিবহন নিয়ে বিপাকে পরেছেন। তাই কৃষিপণ্য পরিবহন করতে এসব বালুচরে এখন ঘোড়ারগাড়িই একমাত্র ভরসা। দুপুরের পরে যমুনার চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায় সারি সারি মালবাহী ঘোরারগাড়ি। এসব ঘোড়ারগাড়িতে কৃষকেরা উচ্চ পরিবহন ভাড়া দিয়ে তাদের কৃষিফসল বাজারজাত করছেন।

আবার জমিতে সার কীটনাশকও ঘোড়ারগাড়ি দিয়েই পরিবহন করে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষি ফসলের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, অপরদিকে ফসল বিক্রি করতে গিয়েও বাড়তি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। এবছর রবি মৌসুমে চরাঞ্চলে ভুট্টা, মরিচ, মিষ্টিকুমড়া, পেঁয়াজসহ প্রায় হাজার কোটি টাকার ফসলের ফলন হয়েছে। যার সবগুলো ফসল কৃষকদের ঘোড়ারগাড়ি দিয়েই পরিবহন করতে হবে, বিকল্প কোনও উপায় নেই।

 কৃষকরা জানান, ৩ কিলোমিটার রাস্তায় এক বস্তা মরিচ পরিবহন করতে ঘোড়ার গাড়িরভাড়া বাবদ তাদের ১২০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। অপরদিকে নদীপাড় থেকে সেই ফসল আবারো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে বাজারজাত করতে হচ্ছে।

সেখানেও পরিবহন ভাড়া গুণতে হচ্ছে। তারা আরও জানিয়েছেন, বালুচরের জন্য যদি সরকার বিশেষ ধরনের কোনও রাস্তার পরিকল্পনা করে, তাহলে সেই রাস্তা দিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলবে এবং কৃষিফসলের উৎপাদন খরচও কমবে। এতে বাজারে বিভিন্ন ধরণের সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই থাকবে।

সদর ইউনিয়নের চর বাটিয়ার কৃষক জুয়েল মিয়া বলেন, এ বছর চারবিঘা জমিতে মরিচসহ প্রায় ১০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসলের আবাদ করেছি। আমাদের চরাঞ্চলে এখন প্রচুর পরিমাণে ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের আবাদ হচ্ছে। কিন্তু আমাদের একমাত্র সমস্যা হচ্ছে, নদীতে পানি না থাকায় নৌকায় ফসল পরিবহন করতে না পারা।

বিকল্প পদ্ধতিতে আমরা ঘোড়ার গাড়িতে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে কৃষিপণ্য পরিবহন করছি। ২ থেকে ৩ কিলোমিটার রাস্তা ঘোড়ারগাড়িতে পরিবহনের জন্য এক বস্তা মরিচের জন্য ১২০ টাকা ভাড়া গুণতে হচ্ছে। সেটি বাজারে নিয়ে যেতে আবারও অটোরিকশা ভাড়া দিতে হচ্ছে।

এখন বাজারে মরিচের দাম ভালো থাকায় আমাদের কিছুটা লাভ হচ্ছে। তাছাড়া আমরা একেবারেই লোকসানে থাকতাম। তাই সরকারের কাছে আবেদন, আমাদের চরাঞ্চলে পণ্য পরিবহনের জন্য ভিন্ন কোনও বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হয়। যেখানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলতে পারবে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, এ বিষয়ে গত কয়েকদিন আগে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের মধ্যে কানেকটিভিটি সড়ক নির্মাণের জন্য। সেখানে বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেটি বাস্তবায়ন হলে কৃষকদের এ সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/159219