মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে যে বার্তা দিল ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশগুলোতে মার্কিন সামারিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইরান।
এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, দেশটি আত্মরক্ষার অধিকারের আওতায় তার সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষা করবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরাঘচি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
তিনি তাদের জানিয়েছেন যে ইরান তার দেশের অখণ্ডতা সুরক্ষায় ও “বৈধ আত্মরক্ষার অধিকারের আওতায় সব প্রতিরক্ষামূলক ও সামরিক সক্ষমতা” ব্যবহার করবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আরাঘচি এসব দেশকে তাদের স্থাপনাগুলো ও ভূখণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানে হামলার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
এরআগে ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে তার মধ্যে মধ্যে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদরদফতর। এছাড়াও সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বিকট বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।
এদিকে আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি ও বড় শহর দুবাইয়ে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত আমিরাতের সামরিক বাহিনী। তবে রাজধানী আবুধাবিতে একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো পড়ে একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা- ডব্লিউএএম।
এ হামলার প্রতিক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ‘বেসামরিক স্থাপনা, ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা বিপজ্জনক ও কাপুরুষোচিত কাজ। এতে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়েছে এবং স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইরানের এই আক্রমণ জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার আমাদের রয়েছে’।
আরব আমিরাত যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এরআগে শনিবার সকাল থেকে যৌথভাবে তেহরানসহ ইরানের ৬ শহরে আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইসরায়েল, কাতার, বাহারাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামারিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/159210