জমির মালিকানা বুঝে না পাওয়ায় বগুড়ার সোনাতলায় হতাশ একটি পরিবার

জমির মালিকানা বুঝে না পাওয়ায় বগুড়ার সোনাতলায় হতাশ একটি পরিবার

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলায় নিভৃত পল্লী এলাকায় এক অসহায় পরিবার দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর আগে বাড়ি নির্মাণ করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস শুরু করলেও ওই পরিবার জায়গার মালিকানা বুঝে পাননি।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের পশ্চিম তেকানী (তালতলা) এলাকার মৃত মজিবর রহমান মন্ডলের ছেলে আব্দুল হান্নান ৭/৮ বছর আগে একই এলাকায় ৭ শতক জমি কিনে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস শুরু করেন। এরই মধ্যে ২০২২ সালে এলাকার গণ্যমান্য ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টায় তার বাড়ি সংলগ্ন জায়গায় একটি হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা নির্মাণ করেন।

এসময় স্থানীয় লোকজন জনৈক আব্দুল হান্নানকে তার বাড়িটি স্থানান্তরের অনুরোধ করেন। এতে তিনি রাজি হলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আব্দুল হান্নানকে একই এলাকার ফইম সরদারের ছেলে মোস্তাফিজার রহমানের ৭ শতক জমির উপর আব্দুল হান্নানের বাড়ি নির্মাণ করে দেন। এ ঘটনার  পর দেড় বছর অতিবাহিত হলেও জমির মালিক জায়গাটি রেজিষ্ট্রি করে দেননি।

এ বিষয়ে একই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, সেলিম সরকার, নছু আকন্দ, কলু মোল্যাসহ স্থানীয় লোকজন বলেন, বিষয়টি গ্রামবাসী অবগত থাকলেও জমির মালিক মোস্তাফিজার রহমান জমি রেজিষ্ট্রি করে দিতে এখন তালবাহানা করছেন।

এ বিষয়ে আব্দুল হান্নান বলেন, দেড় বছর আগে বাড়ি স্থানান্তরের আগে জমির মালিক মোস্তাফিজার রহমানের সাথে ৭ শতক জমি বাবদ ৭ লাখ টাকা চুক্তি হয়। এরপর ওই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার বাড়ির জায়গা বাবদ জমির মালিককে ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে। এরপর জমির মালিক অবশিষ্ট ৩৫ হাজার টাকা গ্রহণও করেনি, জমিটি রেজিস্ট্রি করেও দেয়নি। ফলে পুরো পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও দুশ্চিতায় দিনাতিপাত করে চলছেন।

এ বিষয়ে জমির মালিক মোস্তাফিজার রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ সকল বিষয় অস্বীকার করেন। তবে তার জায়গায় আব্দুল হান্নানের বসত বাড়ি নির্মাণের কথা ও পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাসের কথা স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে সোনাতলা থানার ওসি কবীর হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এই থানায় নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি তার গোচরে নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিবেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/159093