লালমনিরহাটে সরকারি ওষুধ বেসরকারি ক্লিনিকে
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: সরকারি ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিকে। লালমনিরহাটে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত নার্স এবং কর্মচারীদের হাত হয়ে এসব সরকারি ওষুধ বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র মতে, ওষুধের গায়ে ‘সরকারি সম্পদ বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ’ লেখা থাকলেও থেমে নেই সরকারি ওষুধ বিক্রি। এতে দেশের বেশিরভাগ দরিদ্র জনগণ যেমন সরকারি ওষুধ পাচ্ছে না, তেমনি স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আর এ বিষয়ে অভিযোগ ও উপযুক্ত প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন দায়সারা মন্তব্য করছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তা ব্যক্তিরা।
হাসপাতাল থেকে সরকারি ওষুধ দেওয়ার কথা থাকলেও রোগীদের বেশিরভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। যে কারণে ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই এমন রেগীদের সাথে হাসপাতালগুলোর দায়িত্বরত কর্মচারীদের সাথে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ ও হাতাহাতির মতো অপ্রীতিকর ঘটনা লেগেই আছে। গত বৃহস্পতিবার লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে এরকম একটি ঘটনারও খবর পাওয়া গেছে। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোর এ চিত্র নিত্যদিনের।
সম্প্রতি জেলার আদিতমারী উপজেলার আয়েশা ক্লিনিক নামে একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্যালাইন সেটসহ বেশ কিছু সরকারি ওষুধ পাওয়া যায়। এসব ওষুধের গায়ে লেখা ছিলো ‘সরকারি সম্পদ, বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ’। এছাড়াও লালমনিরহাট শহরের রেলবাজার এলাকার একটি বড় ওষুধ ফার্মেসী থেকেও প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অনেক টাকার সরকারি ওষুধ জব্দ করে।
এঘটনায় সেসময় ফার্মেসীর মালিককে আটক করে থানায় মামলাও দায়ের করা হয়। সরকারি ওষুধ চুরি হয়ে যাওয়ার কারণে হাসপাতাল গুলোতে তৈরি হয়েছে ওষুধের কৃত্রিম সংকট। এ ব্যাপারে ক্লিনিক মালিকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়াও তাদের অনেকেই এবিষয়ে কোন কথা বলতে রাজিও হননি।
এব্যপারে লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম জানান, জনবলের অভাবে সবসময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। কতিপয় অসৎ কর্মচারী সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রির সুযোগ নেয় এরকম তথ্য আমিও শুনতে পাই। তবে ওষুধ চুরির বিষয়ে কোন অভিযোগ কিংবা উপযুক্ত প্রমাণ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কোন ছাড় দেয়া হবে না।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/159086