পাবনার চাটমোহরে জামায়াত নেতাকে মারধরের ঘটনায় বিএনপি’র ৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহরে হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার দাখিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৯ জন নামীয়সহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে চাটমোহর উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব আতিকুর রহমান সাচ্চুকে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জামায়াতে ইসলামী চাটমোহর উপজেলা শাখার আমির মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় উপজেলা ও পৌর জামায়াত নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের আহ্বানে ওইদিন হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল দাখিলের শেষদিন ছিল। দুপুরে ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আওরঙ্গজেব ছাইকোলা হাটের টেন্ডার শিডিউল জমা দিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যান এবং নির্ধারিত বাক্সে তা জমা দেন। এসময় সেখানে উপস্থিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালায়।
ঘটনাস্থলে থাকা আনসার সদস্য ও পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এর কিছুক্ষণ পর ব্যক্তিগত কাজ শেষে ইউএনও কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান হাবিবের ওপরও বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলাকারীরা তাকে মারধর শুরু করলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে বিএনপির এক নেতার সহায়তায় হাবিব সেখান থেকে সরে যান। এ ঘটনায় পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি সাদ্দাম হোসেনসহ ৫ জন আহত হন।
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)গোলাম সারওয়ার হোসেন জানান, মারপিটের ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান জানান, ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি যে টেন্ডার দাখিল করেছে তার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিলনা।
আমি জানতামও না। আমি ইউএনও সাহেবের কাছে গিয়েছিলাম এলাকার একটি সমস্যা সংক্রান্ত কাজ নিয়ে। কাজ শেষে রুম থেকে বের হতেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সবাই হামলা করে। এ বিষয়ে চাটমোহর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জিয়ারুল হক সিন্টু বলেন, মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলক। ঘটনার সাথে হাট-বাজার ইজারা নেয়া লোকজন জড়িত। বিএনপির কেউ জড়িত নয়। বরং আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও হামলাকারীদের হাত থেকে ভুক্তভোগীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি।
এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার ঘটনার পরপরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারির উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আলী আছগার। একইসাথে তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে আহবান জানিয়েছেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/159082