ভালো খেজুর চিনবেন কীভাবে?

ভালো খেজুর চিনবেন কীভাবে?

রমজানে ইফতারের অনন্য একটি উপাদান খেজুর। কেউ কেউ সাহরিতেও খেয়ে থাকেন একই ফল। এ ছাড়া অন্যান্য সময়েও অনেকে খেজুর খেয়ে থাকেন। এই খেজুর স্বাদে যেমন সুস্বাদু, এর স্বাস্থ্য উপকারিতাও অনেক।

তাই স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে খেজুর একটি সুপারফুড হিসেবে বিবেচিত। প্রক্রিয়াজাত চিনি বা মিষ্টি একটি সেরা বিকল্প হচ্ছে খেজুর। সারা বিশ্বে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি প্রজাতির খেজুর রয়েছে।

রমজানে খেজুরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভেজাল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ খেজুর বিক্রি করেন।

তাই খেজুর কেনার আগে তাতে কৃত্রিম মিষ্টি বা অন্য কোনো উপাদান মেশানো আছে কি না তা নিশ্চিত হতে হবে। ভালো খেজুর কিভাবে চিনবেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক—

ভালো খেজুরের চিনবেন যেভাবে

  • ভালো মানের খেজুরের উপরিভাগ পরিষ্কার ও কিছুটা চকচকে হলেও মসৃণ হবে না। বরং কিছুটা কুঁচকানো ও শুকনা হবে। আবার ত্বক কুঁচকানো হলেও খেজুর বেশি নরম বা শক্ত হবে না। বেশি চকচকে করার জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা খেজুরে সরিষার তেল, গুড় বা অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করেন।
  • বোঁটা না থাকলে খেজুরে পিঁপড়া বা পোকামাকড় থাকার আশঙ্কা বেশি। তাই খেজুর কেনার সময় খেয়াল করুন খেজুরের বোঁটা আছে কি না।
  • উন্নত মানের খেজুরের স্বাদ স্বাভাবিকভাবেই সহনীয় মাত্রার মিষ্টি হয়। যদি খাওয়ার সময় খুব বেশি মিষ্টি লাগে, তবে সেটিতে কৃত্রিম চিনি বা ক্যারামেল মেশানো থাকতে পারে।
  • প্রাকৃতিকভাবে ভালো খেজুরের প্রতি সাধারণত পিঁপড়া বা মাছি আকৃষ্ট হয় না। যদি খেজুরের চারপাশে পিঁপড়া বা মাছি দেখতে পান, তাহলে ধরে নিতে হবে সেটিতে অতিরিক্ত চিনি, গুড় বা অন্য কোনো উপাদান মেশানো আছে।
  • জমাট চিনি বা আঠালো ভাব আছে কি না, তা দেখে নিন। ভালো খেজুরের স্বাভাবিক মিষ্টতা থাকে, তবে তা কখনোই বেশি আঠালো বা চিনি জমাটবাঁধা অবস্থায় থাকে না। যদি খেজুরের গায়ে চিনির দানা বা অতিরিক্ত আঠালো মিষ্টিভাব দেখা যায়, তবে সেটি নিম্নমানের বা ভেজালযুক্ত হতে পারে।
  • যদি খোলা খেজুর কিনতেই হয়, তবে লক্ষ রাখুন খেজুর যেন গন্ধযুক্ত না হয়। অনেক সময় পোকায় খাওয়া খেজুর আপনার চোখে পড়তে পারে, কিংবা অস্বাভাবিক কালচে খেজুরও থাকতে পারে। টক বা গাঁজানো গন্ধযুক্ত মনে হলে ধরে নিতে পারেন, খেজুরগুলো নষ্ট। স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের খেজুর কিনবেন না।
  • ভালো মানের খেজুর চিরে ফেললে দেখবেন ভেতরের অংশটা হালকা সাদা বা সামান্য বাদামি রঙের। ভেতরে কালচে বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক রং দেখা গেলে তা নষ্ট বা নিম্ন মানের হিসেবে ধরে নেওয়া যায়।
  • অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে অনেক সময় খেজুর একটি অন্যটির সঙ্গে লেগে যায়, যা দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং স্বাদ ও গুণমানও নষ্ট হতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা খেজুরও গলে যেতে পারে। তাই ভালো মানের খেজুর পেতে গলানো খেজুর কেনা এড়িয়ে চলুন।
  • একই খেজুরের একদিকে কম মিষ্টি এবং অন্যদিকে বেশি মিষ্টি হলে বুঝতে হবে, তাতে কৃত্রিম কিছু যোগ করা হয়েছে। স্বাভাবিক খেজুরের মিষ্টতা সাধারণত সব দিকে এক রকম হয়।
  • টেক্সচার বা গঠন পরীক্ষা করতে হলে খেজুরে হালকা চাপ দিন। তাজা খেজুর নরম ও সামান্য আঠালো হয়, অতিরিক্ত নরম নয়। খুব শক্ত বা শুকনা হলে ধরে নেবেন তা পুরোনো। অন্যদিকে অত্যন্ত নরম ও চটচটে হলে অতিরিক্ত পাকাও হতে পারে।
  •  
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/158943