অকেজো টয়লেট নিয়ে ক্ষুব্ধ মার্কিন রণতরীর ৫ হাজার নৌসেনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় নৌ ও বিমান সমাবেশ গড়ে তুলছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেও, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডে থাকা প্রায় ৫ হাজার নাবিকের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন যুদ্ধ নয়, বরং জাহাজের ভেতরে টয়লেট সমস্যা।
ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড গত বছরের জুন থেকে টানা সমুদ্রে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো এর মোতায়েন বাড়িয়েছেন। সাধারণত শান্তিকালীন সময়ে একটি বিমানবাহী রণতরীর মোতায়েন ছয় মাসের বেশি হয় না।
তবে অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমেরি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, ফোর্ডের নাবিকরা ইতোমধ্যে আট মাস ধরে সমুদ্রে রয়েছেন এবং এই মোতায়েন ১১ মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে, যা মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে একটানা মোতায়েনের রেকর্ড ভাঙতে পারে। গত জানুয়ারিতে ফোর্ড একটি অভিযানে অংশ নিয়ে সাবেক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই অভিযানের পরই নাবিকদের জানানো হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তাদের মোতায়েন আরও বাড়ানো হচ্ছে। এরপরই তারা মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হবে।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার প্রভাব পড়েছে জাহাজের যন্ত্রপাতির ওপর। রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়ন বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় একের পর এক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এনপিআর জানায়, ফোর্ডের প্লাম্বিং ব্যবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই রণতরীতে বর্তমানে শত শত টয়লেট অকেজো হয়ে পড়েছে। প্রায় ৬৫০টি টয়লেট কাজ করছে না। ভ্যাকুয়ামভিত্তিক টয়লেট ব্যবস্থার কারণে একটি টয়লেটে সমস্যা দেখা দিলে পুরো অংশের সব টয়লেটই কাজ করা বন্ধ করে দেয়। রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীরা পাইপলাইনে টি-শার্ট থেকে শুরু করে চার ফুট লম্বা দড়ির টুকরো পর্যন্ত আটকে থাকতে দেখেছেন।
নাবিকদের মানসিক চাপ ও ব্যক্তিগত সংকট
জাহাজে থাকা এক নাবিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে অনেকেই ক্ষুব্ধ ও হতাশ। অনেক নাবিক এই মোতায়েন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নৌবাহিনী ছাড়তে চান। অধিকাংশ নাবিকই বিশের কোঠায়, যারা পরিবার থেকে দীর্ঘদিন দূরে রয়েছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে ‘ঘোস্ট মোড’-এ থাকার সময় তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও রাখতে পারেন না।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি বিমানবাহী রণতরীও (ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন), নয়টি ডেস্ট্রয়ার এবং তিনটি লিটোরাল কমব্যাট শিপ। সাধারণত একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন থাকা বিরল ঘটনা। একদিকে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের প্রস্তুতি, অন্যদিকে দীর্ঘ মোতায়েনে ক্লান্ত নাবিক ও জাহাজের ভেতরের অব্যবস্থাপনা-এই দুই বাস্তবতার মাঝেই এখন সমুদ্রে চলছে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড। সূত্র : এনডিটিভি
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/158839