দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জমে উঠেছে ইফতারি বাজার, জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে হাফিজুলের মিহিদানা ও ছানার পোলাও
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: রমজান মাসের শুরু থেকেই দিনাজপুরের পৌর শহরসহ উপজেলার প্রায় প্রতিটি এলাকার হাটবাজারে জমে উঠেছে ইফতার বাজার। হোটেল রেস্তোরাঁসহ গড়ে উঠেছে ছোট বড় মৌসুমি ইফতারের দোকান।
এসব ইফতারের দোকানে ইফতারের জন্য থাকছে খেজুর, পেঁয়াজু, আলু ও বেগুনি চপ, হালিম, ছোলা, ডালের বড়া, মুড়ি ও জিলাপি। কোনো কোনো দোকানে থাকছে চিকেন ফ্রাই, পিৎজা, বারবিকিউ, শামি কাবাব, সুতি কাবাব, তেহেরি, কাচ্চি বিরিয়ানি, শাহি জিলাপিসহ ভুনা খিচুড়িও। ফুলবাড়ী পৌরশহরের ছোটবড় এবং মৌসুমি ইফতারের দোকানসহ অন্তত শতাধিক দোকানের নানা প্রকার ইফতার বিক্রি হয়ে থাকে।
তবে পৌর শহরবাসীর কাছে মধ্য গৌরীপাড়ার হাসমিপট্টি এলাকার হাফিজুর হোটেলের মিহিদানা ও ছানার পোলাও ইফতারের ক্ষেত্রে জনপ্রিয় উপাদানে পরিণত হয়ে ওঠেছে। বিকেল ৪টার পর থেকে মিহিদানা ও ছানার পোলাও কিনতে প্রতিদিন হাফিজুর হোটেলের সামনে উপচে পড়া ভিড় জমতে থাকে ক্রেতাদের। তবে ক্রেতাদের ভিড় জমার আগেই দুপুর থেকেই হোটেলের সামনে মিহিদানা ও ছানার পোলাওসহ অন্যান্য ইফতারসামগ্রীর পসরা সাজিয়ে রাখেন দোকানি।
রমজানের শুরু থেকেই প্রতিদিন মিহিদানা ও ছানার পোলাওসহ হাফিজুরের হোটেলের ইফতার কেনেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু শহিদ। তিনি বলেন, হাফিজুরের হোটেলের ইফতারসামগ্রী অন্য দোকানের চেয়ে একটু ভিন্ন ও রুচিসম্মত। তবে দোকানের বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে মিহিদানা ও ছানার পোলাও। তবে একটু দেরি হলেই আর পাওয়া যায় না এই খাবার।
গত সোমবার বিকেলে ইফতারের আগে হাফিজুরের হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, হোটেলের সামনে ইফতারসামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসে আছেন কয়েকজন কর্মচারী। কাঁচের শো-কেসের মধ্যে রাখা রয়েছে পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুন চপ, ডিমের চপ, বুটের ডালের বড়া, ছোলা, মুড়ি, জিলাপি, নিমকি ও বুন্দিয়া। তবে অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের চেয়ে ‘মিহি দানা ও ছানার পোলাও’ কিনতে ক্রেতাদের বেশি চাহিদা দেখা যায়।
হাফিজুর হোটেলের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান বলেন, পৈতৃক সূত্রে ১৯৮৫ সালে তার বড় ভাই আব্দুর রহমান হোটেল ব্যবসা শুরু করেন। এরপর ১৯৯৫ সালে তিনিও বড় ভাইয়ের সাথে ব্যবসায় যোগ দেন। প্রায় ৩০ বছর পূর্বে তিনি মিহিদানা ও ছানার পোলাও তৈরি করা শুরু করেন। সেই থেকে এখনও সেটি অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, বুটের বেসন, চিনিসহ নানা ধরণের মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় মিহি দানা। একইভাবে বুটের বেসনের পাশাপাশি দুধের ছানা ব্যবহার করে তৈরি করা হয় ছানার পোলাও। ২০০ টাকা কেজি দরে মিহিদানা ও ছানার পোলাও বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন ২০ কেজি মিহিদানা এবং ২০ কেজি ছানার পোলাও বিক্রি করা হয়। এই দুটো খাবার পুরো শহরজুড়ে শুধুমাত্র এখানেই তৈরি হয়।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/158800