কাজী ফার্মসের ৬ শতাধিক গাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড় জেলা সদরের হাফিজাবাদ ইউনিয়নে অবস্থিত কাজী ফার্মস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান কাজী হাড়িভাসা ফার্মস লিমিটেডের নিজ জমিতে লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ছয় শতাধিক গাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
এব্যাপারে কাজী ফার্মসের পক্ষ থেকে পঞ্চগড় সদর থানায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত শনিবার সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের মডেলবাজার এলাকার মজিবরের স’মিল থেকে কিছু গাছের গুঁড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের সর্দারপাড়া মৌজায় কাজী ফার্মস লিমিটেডের কাজী হাড়িভাসা ফার্মস লিমিটেড কয়েকটি দলিলের মাধ্যমে প্রায় ৩০ একর জমি ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছিল। গত ২৭ জানুয়ারি বেলা দেড়টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই ফার্মের প্রায় ১১ একর জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে জমিতে লাগানো দুইশ’টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে নিয়ে যায়।
যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। সেখানে আরও ৪০টি গাছ কেটে ফেলে রাখে। এ সময় তারা জমির চারপাশের ৫০টি পিলার নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই দিনই কাজী ফার্মস লিমিটেড পঞ্চগড় রিজিয়নাল অফিসের এক্সিকিউটিভ (লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স) বোরহান উদ্দীন বাদি হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা করেন। ওই ঘটনার তিনদিনের মাথায় ৩০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে নয়টার দিকে দুর্বৃত্তরা আবারও একই জমিতে লাগানো ৩৫০টি ইউক্যালিপটাস, একটি বড় কাঁঠাল গাছ, একটি বড় কদম গাছ কেটে নিয়ে যায়।
যার বাজার মূল্য প্রায় তিন লাখ ৬৭ হাজার টাকা। এ সময় তারা ৩০টি পিলার ও কাঁটাতারের বেড়া খুলে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় নিরাপত্তাকর্মীরা সেখানে অবস্থান করলেও তাদের মারমুখি আচরণ ও অস্ত্রের ভয়ে নিরাপদ দূরত্বে চলে যায়। এ ঘটনায় গত ২ ফেব্রুয়ারি কাজী ফার্মস লিমিটেড পঞ্চগড় রিজিয়নাল অফিসের এক্সিকিউটিভ (লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স) বোরহান উদ্দীন বাদি হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় আরও একটি মামলা করেন।
এ ব্যাপারে কাজী ফার্মস লিমিটেড পঞ্চগড় রিজিয়নাল অফিসের এক্সিকিউটিভ (লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স) বোরহান উদ্দীন জানান, আমাদের কোম্পানীর ক্রয় করা জমিতে লাগালো প্রায় ছয়শ’ গাছ কেটে নেয়ার ঘটনায় আমরা থানায় দুইটি মামলা করেছি। যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
একটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বেলাল হোসেন জানান, কাজী ফার্মের পক্ষ থেকে পঞ্চগড় থানায় দুইটি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা আমি তদন্ত করছি। বর্তমানে দুইটি মামলাই তদন্তাধীন রয়েছে। গত শনিবার আমরা মডেলবাজার থেকে চুরি যাওয়া কিছু গাছের গুঁড়ি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/157251