বগুড়ায় ৯৮৩ ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তা দিবে আইন শৃংখলা বাহিনীর ৭ হাজার সদস্য

বগুড়ায় ৯৮৩ ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তা দিবে আইন শৃংখলা বাহিনীর ৭ হাজার সদস্য

মাসুদুর রহমান রানা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনের অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ৯৮৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫০০ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আবার ১৯০টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বা অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করেছে প্রশাসন। সেইসাথে আরও ৩১০টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও ৪৮৩টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেলার মোট ৯৮৩টি ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের নিরাপত্তা দিবে পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও আনসারসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর ৭ হাজার ১২০ জন সদস্য। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য ছাড়াও পর্যাপ্ত আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। আরও দায়িত্ব পালন করবেন র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। এছাড়া দায়িত্ব পালন করবেন ৪৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ২৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৭ জন সিভিল জজ।

আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মো: শাহাদাত হোসেন পিপিএম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি করতোয়া’কে বলেন, মোট ৯৮৩টি ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবে এক হাজার ৫৭৩ জন পুলিশ, ৫৪৩ জন আর আর এফসহ অন্যান্য সকল বহি: ইউনিট হতে পুলিশ অফিসার ও ফোর্স, ১৫০ জন এপিবিএন সদস্য, ১২৮ জন র‌্যাব সদস্য, এক হাজার ৬০৫ জন সেনা সদস্য, ৪৮১ জন  বিজিবি সদস্য. ও ২ হাজার ৬৪০ জন আনসার সদস্য। বগুড়া ডিএসবির সূত্র জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র চুড়ান্ত করা হয়েছে।

বগুড়ার সাতটি আসনে মোট ৯৮৩টি কেন্দ্রে এবারের ভোটগ্রহণ করা হবে। ভোট কক্ষ রয়েছে, পাঁচ হাজার ৪৭৮টি। এর মধ্যে স্থায়ী পাঁচ হাজার ১৪৮টি ও অস্থায়ী ৩৩০টি। এর মধ্যে ১৯০টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ (অধিক গুরুত্বপূর্ণ), ৩১০টি ঝুঁকিপুর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) ও ৪৮৩টি সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে।

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সোনাতলা উপজেলায় ৫৪টি কেন্দ্র আছে। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২, ঝুঁকিপূর্ণ ৩১ ও সাধারণ কেন্দ্র ২১টি। সারিয়াকান্দি উপজেলায় ৭২টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫, ঝুঁকিপূর্ণ ১৬ ও সাধারণ কেন্দ্র ৪১টি। মোট ৭২ কেন্দ্রের মধ্যে সারিয়াকান্দি উপজেলার দুর্গম চরে ১৯টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। সেখানে ভোটারদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের শিবগঞ্জ উপজেলায় মোট ১১৪টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৬, ঝুঁকিপূর্ণ ৪ ও সাধারণ কেন্দ্র ৮৪টি।

বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপঁচাচিয়া) আসনের আদমদীঘি উপজেলায় মোট ৬১টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৬, ঝুঁকিপূর্ণ ৩৪ ও সাধারণ কেন্দ্র ১১টি। দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ৫৭টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৬ট, ঝুঁকিপূর্ণ ৩৯ ও সাধারণ কেন্দ্র ১২টি।

বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলায় মোট ৪৯টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ নেই, ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ ও সাধারণ কেন্দ্র ৩১টি। কাহালু উপজেলায় ৬৫টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৩১, ঝুঁকিপূর্ণ ২৭ ও সাধারণ কেন্দ্র ৭টি।

বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের শেরপুর উপজেলায় মোট ৯৯টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৩০, ঝুঁকিপূর্ণ ১৬ ও সাধারণ কেন্দ্র ৫৩টি। ধুনট উপজেলায় ৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১২, ঝুঁকিপূর্ণ ৬৩ ও সাধারণ কেন্দ্র ১৪টি।

বগুড়া-৬ (সদর) আসনে সদর উপজেলায় মোট ১৫০টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৫, ঝুঁকিপূর্ণ ৪৮ ও সাধারণ কেন্দ্র ৯৭টি।

বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের গাবতলী উপজেলায় মোট ৯৮টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ১, ঝুঁকিপূর্ণ ১৪ ও সাধারণ কেন্দ্র ৮৩টি। শাজাহানপুর উপজেলায় ৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৪৬টি  ও সাধারণ কেন্দ্র ২৯টি।

বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মো: শাহাদাত হোসেন জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্রে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক সেনা সদস্য, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করার কাজ শেষের পর্যায়ে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে  পুলিশের ভ্রাম্যমাণ টিম রয়েছে ১০৫ টিম। এছাড়া ২৫টি স্ট্রাইকিং টিম ও ১৭টি স্ট্যান্ডবাই টিম থাকবে। সেইসাথে জেলার ১২টি উপজেল্য়া র‌্যাবের ২টি করে স্ট্রাইকিং টিম কাজ করবে। এর বাইরে জেলার সব উপজেলায় সেনাবাহিনীর  স্ট্রাইকিং টিম থাকবে।

তারা পরিকল্পনা করেছেন এইভাবে। ১৬শ’র বেশি সেনাবাহিনী সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি জানান। এছাড়া বিজিবি ও আনসার সদস্যদেরও স্ট্রাইকিং টিম থাকবে। পুলিশ সুপার আরও বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন ৪৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আরও দায়িত্ব পালন করবেন ২৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৭ জন সিভিল জজ । এতে নিরাপত্তার শক্ত বলয় তৈরি হয়েছে। এতে ভোটারবৃন্দ ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে এসে ভোট দিতে পারবেন। এতে ভোটারদের কোন সমস্যা হবে না।

পুলিশ সুপার করতোয়া’কে বলেন ভোটকেন্দ্র দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যরা বডি অর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে।  ওই ক্যামেরায় রেকর্ড করা হবে। এরপর দায়িত্ব শেষে থানায় এসে ক্যামেরার রেকর্ড দেখে এ্যানালাইসিস করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বগুড়া জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন,গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে দুইজন ও সাধারণ কেন্দ্রে একজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।

সেইসাথে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৫ থেকে ১৭ জন করে আনসার সদস্যও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।  পুলিশ বলছে, ভোটকেন্দ্রে কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা হলে বডি- অন-ক্যামেরাও সিসি ক্যামেরার সহায়তা নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর কাজ শেষের দিকে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক  ও জেলা নির্বাচনি রির্টানিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান জানান, ত্রয়োদশ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সফল ভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলাবাহিনী রয়েছে পর্যাপ্ত।

নিরাপত্তা নিয়ে কোন সন্দেহ নাই। সেনাবাহিনী, পুলিশ র‌্যাব, বিজিবি, আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। তিনি বলেন, এবার সাংবাদিকদের পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ কার্ড দেওয়া হয়েছে যাতে তারা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। তিনি সাংবাদিকদেরকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করার আহবান জানান।

এ দিকে জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ার সাতটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ৮১ হাজার ১৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭১ জন এবং নারী ভোটার ১৫ লাখ এক হাজার ২৭ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪২ জন।

পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটার বেশি রয়েছেন ২০ হাজার ১৫৬ জন। জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম বলেন, ভোট কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবে। অধিক গুরত্বপূর্ণ ও  গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সেনা সদস্য, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরাও সক্রিয় থাকবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/157233