বগুড়ায় জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ : সংবাদ সম্মেলন চলাকালে মারা গেলেন আহত বিএনপি নেতা মাসুদ রানার মা

বগুড়ায় জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ : সংবাদ সম্মেলন চলাকালে মারা গেলেন আহত বিএনপি নেতা মাসুদ রানার মা

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ার নন্দীগ্রামে জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতামাজগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো. মাসুদ রানা ছেলে সিয়াম আকন্দ এই সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিয়াম আকন্দ তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে জামায়াতের নেতাকর্মী বেলাল ও ফারুক নন্দীগ্রামের পারশুন গ্রামে ভোট কেনার জন্য বাড়ি বাড়ি টাকা প্রদানকালে আব্দুল আজিজের বাড়িতে যান। এসময় সেখানে যান বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা সেখানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বর্তমান জামায়াত কর্মী বেলালসহ জামাত-শিবিরের নেতাকর্মীদের টাকা বিলি করতে দেখতে পান।

এসময় বিএনপি নেতাকর্মীরা সেখান থেকে বেলালসহ দু’জনকে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িতে নিয়ে যান। পুলিশে খবর দিলে আধাঘণ্টার রাস্তা দেড় ঘণ্টায় আসে তারা। পুলিশের নিরব ভূমিকার কারণে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে আটকের আগেই কয়েকশ’ জামায়াত কর্মী লাঠিসোঠা ও ধারালো অস্ত্র হাতে সেখানে হামলা চালান।

তারা বিএনপি নেতা মাসুদ রানা ও তার ভাইকে মারপিট করে এবং বাড়িঘর ব্যাপক ভাঙচুর চালান। পুলিশের উপস্থিতিতেই বিএনপি কর্মীদের হাতে আটক দুই জামায়াত কর্মীকে সেখান থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। হামলায় বিএনপি নেতা মাসুদের ডান চোখ উপড়ে কোটরের বাইরে চলে আসে।

ডাক্তার জানিয়েছেন, ‘চোখটির আলো ফেরানো অনিশ্চিত।’ তার ছোট ভাই রবিউল ইসলামের ডান হাত ও ডান পা ভেঙে ফেলাসহ মাথায় ১৭টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তারা উভয়েই বর্তমানে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হামলায় মাসুদের স্ত্রী-সন্তানকে মারপিট এবং তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এছাড়াও আশেপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজসহ ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

এসময় বগুড়া জেলা বিএনপি’র সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের বিএনপি’র সংসদ সদস্য প্রার্থী মোশারফ হোসেনসহ সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সস্পাদক সহিদ উন-নবী-সালাম, জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সস্পাদক আবু হাসানসহ নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি শামিম চৌধুরী ও একে আজাদ, জেলা বিএনপি’র সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক কামরুল হাসান জুয়েল, পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক একেএম শফিউল আলম সুমনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া জেলা বিএনপি’র সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াত বনে যাওয়া দুষ্কৃতিকারীদের ছিনিয়ে নেয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

বিএনপি এই ঘটনায় সংযমের পরিচয় দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ প্রশাসন শক্ত অবস্থান নিলে এমন সহিংসতার ঘটনা ঘটতো না। সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করতেই পরিকল্পিতভাবে এমন হামলার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মোশারফ হোসেন বলেন, আমরা যখন এখানে কথা বলছি তখন খবর পেলাম বিএনপি’র সভাপতি ছেলে মাসুদ রানার চোখ হারানোর খবরে তার মা মাহমুদা বেগম স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুলিশি নির্লিপ্ততার কারণেই এমন হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষরা ত্রাস ও মব সৃষ্টি করছে অভিযোগ করে তিনি ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে অবিলম্বে স্থানীয় ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার দাবি করেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/157217