নীলফামারী- ৪ আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখী
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী - ৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি (এ) ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েক দিনে গোটা নির্বাচনি এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা করা হচ্ছে।
উত্তর জনপদের ছয়টি উপজেলা নিয়ে নীলফামারী জেলা। উপজেলাগুলো হচ্ছে সদর, সৈয়দপুর, ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, ও কিশোরগঞ্জ। আর এ সব উপজেলা নিয়ে জাতীয় সংসদের চারটি সংসদীয় আসন। এর মধ্যে নীলফামারী জেলা সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে নীলফামারী - ৪ (সৈয়দপুর- কিশোরগঞ্জ) গঠিত হয়েছে।
বিগত সংসদ নির্বাচনগুলোতে এ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন ১৯৮৬ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (এ) রওশন আলী দুলু মিয়া, ১৯৯১ সালে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫ দলীয় ঐক্য জোটের হয়ে ন্যাপ মনোনীত অধ্যাপক আব্দুল হাফিজ, ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (এ) ড. মো. আসাদুর রহমান, ২০০১ সালে বিএনপির অধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসেন সরকার, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের কর্নেল (অবঃ) এ, এ, মারুফ সাকলান, ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (এ) আলহাজ্ব মো. শওকত চৌধুরী, ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির আহসান আদেলুর রহমান এবং ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্র্থী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আলহাজ¦ মো. সিদ্দিকুল আলম।
এ পরিসংখ্যা থেকে দেখা যাচ্ছে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে এ আসনটি বরাবরেই জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। এবারেও আসনটি তাদের দখলে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকেই। এবারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনটিতে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি’র মো. আব্দুল গফুর সরকার (ধানের শীষ), জাতীয় পাটির (এ) মো. সিদ্দিকুল আলম (লাঙ্গল), জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল মুনতাকিম (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো.শহিদুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মো. মাইদুল ইসলাম (কাঁচি), বাংলাদেশ জাতীয় পাটির মির্জা মো. শওকত আকবর রওশন (কাঁঠাল), স্বতন্ত্র মো. রিয়াদ আরফান সরকার (ফুটবল), এস এম মামুনুর রশিদ (মোটরসাইকেল) ও জোবায়দুর রহমান হীরা (ঘোড়া)।
তন্মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মামুনুর রশিদ (মোটরসাইকেল) ও বাংলাদেশ জাতীয় পাটির মির্জা মো. শওকত আকবর রওশন (কাঁঠাল) ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এতে করে বর্তমানে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নীলফামারী-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৪৮ হাজার ৬৪৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ২৪ হাজার ২১৭জন এবং নারী ভোটার দুই লাখ ২৪ হাজার ৪২৭জন। আর সৈয়দপুর উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৪ জন এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ২২হাজার ৫৫৫ জন। এছাড়াও পাঁচজন হিজড়া ভোটার রয়েছেন। এবারে নীলফামারী- ৪ আসনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৬৯টি। তন্মধ্যে সৈয়দপুর উপজেলায় ৯১টি এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৭৮টি।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/157128