বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ দাঁড়িপাল্লা'র দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ দাঁড়িপাল্লা'র দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস

শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি: আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নির্বাচনি প্রচারণা তুঙ্গে। দলীয় প্রার্থীকে সাথে নিয়ে নেতা-কর্মীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাট-বাজার, গ্রামগঞ্জে, পাড়া মহল্লায় পথসভা, জনসভা, উঠান বৈঠক ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছে। পৌরসভা ও ইউনিয়নে ওয়ার্ড ভিত্তিক বিভিন্ন লোকালয়ে অস্থায়ী নির্বাচনি অফিসগুলো ভোটার ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে সরগম হয়ে উঠেছে।

একটি মাত্র উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৭১ হাজার ৪৯৭ জন, নারী এক লাখ ৭০ হাজার ৬৫৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) ৫ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১১৪ টি তার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৪২টি।

এ আসনে প্রার্থী ৭জন তারা হলেন বিএনপির মীর শাহে আলম (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান (দাঁড়িপাল্লা), নাগরিক ঐক্য'র মাহমুদুর রহমান মান্না (কেটলি), জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: জামাল উদ্দিন (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার (ট্রাক) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম তালু (সিঁড়ি)।

বিগত নির্বাচনে এই আসনের ফলাফলে দেখা যায় ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াতের মাওঃ আবুল আজাদ মোহাম্মাদ শাহাদুজ্জামান, ১৯৯৬ সালে বিএনপির প্রার্থী এড. হাফিজুর রহমান, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির রেজাউল বারী ডিনা, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির এড. হাফিজুর রহমান এবং ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ টানা ৩ মেয়াদ সংসদ সদস্য ছিলেন।

এবার নির্বাচনে ৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটারদের আলোচনায় ঘুরে ফিরে আসছে বিএনপি, জামায়াত প্রার্থীর নাম। চলছে নানা হিসাব নিকাশ। ভোটারদের অনেকেই বলছেন মূল লড়াই হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা'র মধ্যে। অপরদিকে হেভিওয়েট প্রার্থী ডাকসুর সাবেক ভিপি নাগরিক ঐক্য'র সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এই আসন থেকে বিগত ৪টি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ-বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও কোন সুফল পাননি।

এবার ৫ম বারের মত তিনি কেটলি মার্কা নিয়ে জোট থেকে বেরিয়ে এসে নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। এদিকে গত কয়েকদিন আগে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ খোলা চিঠি পাঠিয়ে নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে চালাচ্ছেন প্রচারণা। তবে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সেলিম সরকার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম তালু'র কোন প্রচারণা বা গণসংযোগ চোখে পড়েনি।

ধানের শীষের প্রার্থী মীর শাহে আলম বলেন, দলের চেয়ারমান তারেক রহমান ৩১ দফা দিয়ে পরিকল্পনা ও স্বপ্ন নিয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়েছেন। ৩১ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের আশ্বাসে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ও উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা তারেক রহমানের প্রতি আস্থা রেখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করবেন।

জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী আবুল আজাদ মোহাম্মাদ শাহাদুজ্জামান, দল মত নির্বিশেষে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যবদ্ধ হয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনায় সর্বস্তরের মানুষের ভোট ও সমর্থন প্রার্থনা করছেন। তিনি আশা করেন, এবারের নির্বাচনে জনগণ দলমত নির্বিশেষে তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা নাগরিক ঐক্য'র আহ্বায়ক শাহিদুল ইসলাম জানান, বিএনপি তাদের ‘ইগনোর’ করেছে। তারা মাহমুদুর রহমানকে জোটে নেওয়ার কথা বলেও শেষ পর্যন্ত অঙ্গীকার থেকে সরে গেছে। তাই মান্না এবার কেতলি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, এলাকায় বিগত কয়েক বছরে মান্নার জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। তাই প্রতিদ্বন্দ্বী যেই হোক না কেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে মান্না বিজয়ী হবেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/157111