পাবনা-২ আসনে নির্বাচনি উত্তাপ, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি-জামায়াত

পাবনা-২ আসনে নির্বাচনি উত্তাপ, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি-জামায়াত

বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচন আর মাত্র তিনদিন বাকি। আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে আগের ৬৯, পাবনা-২ আসনের সঙ্গে বেড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন যুক্ত হয়ে নতুনভাবে গঠিত হয়েছে ৬৯, পাবনা-২ সংসদীয় আসন (সুজানগর-বেড়া)।

এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জনসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও মিছিল করে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এতে করে নির্বাচনি মাঠে উত্তাপ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিন দিন বাড়ছে।

যদিও এ আসনে জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরাও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীকে কেন্দ্র করে। আলোচনার শীর্ষে আছেন বিএনপি’র প্রার্থী এড. একেএম সেলিম রেজা হাবিব এবং জামায়াতের প্রার্থী সহকারী অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিন। আগে পাবনা-২ আসনটি গঠিত ছিল সুজানগর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন এবং বেড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে।

তবে সর্বশেষ পুনর্বিন্যাসে এখন পুরো সুজানগর উপজেলা ও বেড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে এই সংসদীয় আসন। আসন পুনর্বিন্যাসের আগে এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার ৪৪০ জন। বর্তমানে ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৪০৮ জনে। এরমধ্যে সুজানগর উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৯০ জন এবং বেড়া উপজেলায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৭১৮ জন।

বিগত নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই আসন থেকে ছয়বার আওয়ামী লীগ, চারবার বিএনপি এবং একবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই আসন থেকে বিজয়ী কোনো সংসদ সদস্যকে কখনো বিরোধী দলের আসনে বসতে হয়নি। ফলে অনেকের কাছেই পাবনা-২ আসনটি ‘ক্ষমতার চাবিকাঠি’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

বিএনপির প্রার্থী এড. একেএম সেলিম রেজা হাবিব এ এলাকার ভোটারদের কাছে পরিচিত ও পরীক্ষিত মুখ। বেড়া উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক কার্যক্রম বর্তমানে তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকায় তিনি সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।

আগের নির্বাচনে শক্তিশালী আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে বেড়া উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের বিপুল ভোটে তিনি দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনে বেড়া উপজেলার নতুন করে যুক্ত চারটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা তার জন্য ভোটের সমীকরণ আরও অনুকূলে এনেছে বলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা মনে করছেন।

বেড়া উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রইজ উদ্দিন বলেন, সেলিম রেজা হাবিব একজন ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ। দলের সুদিন-দুর্দিনে তিনি সবসময় মানুষের পাশে থেকেছেন। বেড়া-সুজানগরের মানুষ তাকে যোগ্য নেতা হিসেবে আবারও ধানের শীষে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাবেন।

অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া সহকারী অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিনকে ঘিরে জামায়াত ও শিবির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সুসংগঠিত জামায়াত উঠান বৈঠক, দলবদ্ধভাবে ভোট প্রার্থনা এবং গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী রবিউল হাসান রুবেল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মওলানা আফজাল হোসেন এবং গণঅধিকার পরিষদের এড. গোলাম সরওয়ার খান জুয়েল নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই পাবনা-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উত্তাপ বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটের রায় কার পক্ষে যাবে সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন এ এলাকার সাধারণ ভোটাররা।

বেড়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ডা. আব্দুল বাসেত খান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি জামায়াত ইসলামের পক্ষে বলে মনে করছি। সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা করা হচ্ছে। এতে জনগণের স্বতস্ফুর্তাও লক্ষণীয়। বেড়া ও সুজানগরের মানুষ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব চান। আমরা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা করছি। ভোটাররা বিবেচনা করেই অধ্যাপক হেসাব উদ্দিনকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাবেন এটাই আমাদের আশা।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/156993