সিরাজগঞ্জ-১ আসনে ৫৪ বছরের ইতিহাস পাল্টাতে মরিয়া বিএনপি-জামায়াত
কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সংসদীয় আসন সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর ও সদরের একাংশ) আসনটি (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। প্রয়াত ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও তার দুই ছেলে ও নাতি এই আসন থেকে নির্বাচত হয়েছেন। তবে ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম।
এছাড়া ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর দ্বিতীয় ছেলে মোহাম্মদ নাসিম। ১৯৯৬ সালে মোহাম্মদ নাসিম সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর) ও সদর-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন।
সিরাজগঞ্জ-১ আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে তার বড় ভাই মোহাম্মদ সেলিম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ ও ২০২০ সালের উপনির্বাচন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে প্রকৌশলী তানভীর শাকিল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন জয় লাভ করেন। তবে ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন করে স্বপ্ন দেখেছে বিএনপি ও জামায়াত।
এবার এই আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আলোচনার কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী সেলিম রেজা ও জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা শাহীনুর আলম। অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন-গণঅধিকার পরিষদের মলিকা খাতুন, জাতীয় পার্টির জহুরুল ইসলাম, স্বতন্ত্র আব্দুস সবুর ও নাগরিক ঐক্য’র নাজমুস সাকিব।
স্থানীয়দের মতে, নারী ও আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটাররা এখানে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করতে পারেন। তাদের মন জয় করতে যমুনার ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। বিএনপি’র প্রার্থী সেলিম রেজা উচ্চশিক্ষিত সৎ, নম্র ও মিষ্টভাষী। তার বাবা প্রয়াত আফজাল হোসেন কাজিপুর উপজেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
তিনি জনপ্রিয় জননেতা ছিলেন। ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বেশিরভাগ ভোটার ব্যক্তিগতভাবে তাকে খুব পছন্দ করেন। তবে ৫ আগস্টের পর বিএনপি’র নৈরাজ্যের কারণে ভোটারগণ কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে সেলিম রেজার দাবি, জনগণ এখন বুঝতে পারছে। উন্নয়নের জন্যে তারা ধানের শীষেই ভোট দেবেন। নির্বাচিত হতে পারলে দল-মত নির্বিশেষে হিংসা, বিদ্বেষ দূরে রেখে সবদলকে সাথে নিয়ে কাজিপুরের উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী শাহিনুর আলম এলাকায় সজ্জন মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি জেলা জামায়াতের আমির। অনেক দেরিতে বিএনপি’র প্রার্থীতা ঘোষণা হলেও দলীয় প্রার্থী হিসেবে অনেক আগে থেকেই মাঠে রয়েছেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনের পর তিনি বা তার দল কোন হামলা-মামলায় জড়াননি। নির্বাচিত হলে সমতার ভিত্তিতে কাজিপুরকে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তাতে করে বেশ সাড়াও পাচ্ছেন জানিয়ে জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে মূলত বিএনপি এবং জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কাজিপুরের একটি পৌরসভা ও ১২ ইউনিয়ন ও সিরাজগঞ্জ সদরের চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষা ৮৫ হাজার ০২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৭৬ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৪৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চারজন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/156966