কুরআন বিরোধী সংবিধান বহাল রেখে সরকার পরিবর্তনে জাতির কল্যাণ হবে না: ইসলামী সমাজের আমীর
স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা : সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্বকে সকল সমস্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ‘ইসলামী সমাজ’-এর আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর। তিনি বলেছেন, আলকুরআন বিরোধী সংবিধান বহাল রেখে কেবল সরকার পরিবর্তন করলে দেশ ও জাতির কোনো প্রকৃত কল্যাণ হবে না। গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থাকে তিনি ‘আযাব-গজবের পথ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে "সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল সমস্যা ও সমাধানের উপায়" শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিক ও সুধীজনদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতে সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার জন্য তিনটি মৌলিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে:
১. ইসলাম ও মানবতা বিরোধী মতবাদ গণতন্ত্র এবং এর ভিত্তিতে রচিত কুরআন বিরোধী সংবিধান।
২. এই সংবিধানের প্রতি মানুষের আনুগত্য স্বীকার করা।
৩. আলকুরআন বিরোধী সংবিধানের ধারক-বাহক নেতা বা সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন।
তিনি বলেন, "অতীতে বহুবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান না হওয়ায় মানুষের জীবনে বিপর্যয় কমেনি, বরং বেড়েছে।" বিগত সরকারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, "শেখ হাসিনা কুরআন বিরোধী সংবিধানের অধীনে ১৬ বছর ক্ষমতার অপব্যবহার করে যে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিলেন, তা ছিল মূলত আল্লাহর আযাব। কুরআন বিমুখ রাজনীতির কারণেই আজ তাকে এবং তার দলকে চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে।"
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে ইসলামী সমাজের আমীর বলেন, "নির্বাচনের মাধ্যমে কেবল ক্ষমতার রদবদল হবে। যারা ক্ষমতায় আসবেন, তারাও যদি এই কুরআন বিরোধী সংবিধান সংরক্ষণের শপথ নেন, তবে সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলাবে না এবং আল্লাহর গজব থেকেও মুক্তি মিলবে না।"
সকল সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে তিনি ‘সৃষ্টিকর্তার সার্বভৌমত্ব’ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "একমাত্র রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে আলকুরআনের আইন দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করলেই সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। এতে সকল ধর্মের মানুষ যার যার ধর্ম শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারবে এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠিত হবে।"
অনুষ্ঠানে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ইসলামী সমাজে শামিল হওয়ার ডাক দেন তিনি। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ইসলামী সমাজের সহকারী দায়িত্বশীল আবু জাফর মুহাম্মাদ সালেহ’র সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিভাগীয় অঞ্চল-২ এর দায়িত্বশীল মুহাম্মাদ ইয়াছিন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতা মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লা, সোলায়মান কবীর, আমীর হোসাইন, মো. আলী জিন্নাহ্, আজমুল হক, মো. নুরুদ্দিন, মো. সেলিম মোল্লা, সাইফুল ইসলাম মিঠু ও হাফিজুর রহমান প্রমুখ।