জামিন ছাড়াই মুক্তি পেলেন হত্যা মামলার ৩ আসামি

জামিন ছাড়াই মুক্তি পেলেন হত্যা মামলার ৩ আসামি

ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিননামা ছাড়াই হত্যা মামলার তিন আসামিকে মুক্তি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর কারাগারের ভেতর-বাইরে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ এটিকে ‘ভুলমুক্তি’ দাবি করলেও দায়িত্বশীলতার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার জেরে ডেপুটি জেলাা জাকারিয়া ইমতিয়াজকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মুক্তি পাওয়া তিন আসামি হলেন- মো. আনিস মিয়া, রাশেদুল ইসলাম, জাকিরুল ইসলাম তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার তারাটি এলাকায়। তারা একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে বন্দি ছিলেন।

গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে এই ঘটনা ঘটে।

তবে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঘটনাটি জানাজানি হয়। পরে সংবাদমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কারা কর্তৃপক্ষ।

ময়মনসিংহের সিনিয়র জেল সুপার মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি ‘ভুলমুক্তি’। কারাগারের কর্মকর্তা ভুল করে তাদের ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে। 

ময়মনসিংহ বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ওই তিনজন হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। প্রডাকশন ওয়ারেন্টকে ভুল করে জামিননামা ভেবে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বরত ডেপুটি জেলা জাকারিয়া ইমতিয়াজকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন করবে এবং যে কর্মকর্তাদের এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, কারাগার কর্তৃপক্ষ তাদের এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানাননি। তিনি বলেন, ছেড়ে দেওয়া আসামিদের ধরতে হলে পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের অবহিত করলে আসামিদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা সহজ হতো।

এদিকে, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। হত্যা মামলার আসামিদের কীভাবে এত সহজভাবে কারাগার থেকে ছাড়া গেল, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও স্বচ্ছতা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/155811