স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত বেড়ে ৪০
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে গতকাল রোববার রাতে একটি দ্রুতগামী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সাথে সংঘর্ষ হয়। গত ৮০ বছরের মধ্যে ইউরোপে ঘটা অন্যতম ভয়াবহ এই রেল দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে।
জানা যায়, এতে আরও ১২ জন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
২৬ বছর বয়সী বেঁচে যাওয়া যাত্রী আনা গার্সিয়া আরান্দা বলেন, ট্রেনটি একপাশে কাত হয়ে যায়। তারপর সব অন্ধকার হয়ে গেল, আর আমি শুধুই চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া আনা আরও জানান, দমকলকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে তার গর্ভবতী বোনকে উদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, সেখানে এমন কিছু মানুষ ছিলেন যারা ঠিকঠাক ছিলেন, আবার অনেকে খুব বাজেভাবে আহত হয়েছিলেন। দেখে বোঝা যাচ্ছিল তারা মারা যাবেন, কিন্তু কিছুই করার ছিল না।
স্প্যানিশ রেড ক্রসের মতে, দুর্ঘটনাস্থলটি একটি পাহাড়ি এবং জলপাই চাষের অঞ্চল। সেখানে পৌঁছানোর জন্য মাত্র একটি সরু রাস্তা রয়েছে, যা অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের জন্য অত্যন্ত কঠিন।
আন্দালুসিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল মোরেনো জানান, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিচে চাপা পড়া মানুষদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। পুলিশ ড্রোন ফুটেজে দেখা গেছে, ট্রেন দুটি একে অপরের থেকে ৫০০ মিটার দূরে থামে এবং একটি ট্রেনের বগি দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়।
প্রাথমিক তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বিশেষজ্ঞরা রেললাইনে একটি ভাঙা সংযোগ বা 'জয়েন্ট' খুঁজে পেয়েছেন, যা দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতে, মানুষের ভুলের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। ইরিও ট্রেনটি মালাগা থেকে মাদ্রিদে ১১০ কিমি/ঘন্টা গতিতে যাওয়ার সময় লাইনচ্যুত হয়। এর ঠিক ২০ সেকেন্ড পরে, ২০০ কিমি/ঘন্টা গতিতে আসা দ্বিতীয় ট্রেনটি লাইনচ্যুত বগি বা ধ্বংসাবশেষের সাথে ধাক্কা খায়।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তার ডাভোস সফর বাতিল করেছেন এবং পরিবহন মন্ত্রী অস্কার পুয়েস্ত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ নিহতদের শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য কর্ডোবায় একটি অফিস খুলেছে।