টেকনাফ সীমান্তে ১০টি মাইনের ট্রিগার অংশ উদ্ধার

টেকনাফ সীমান্তে ১০টি মাইনের ট্রিগার অংশ উদ্ধার

টেকনাফের ‎নাফ নদ সীমান্ত এলাকায় থেকে ১০টি স্থল মাইনের চাপ প্লেট (ট্রিগার অংশ) উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব অংশে বিস্ফোরক পাওয়া না গেলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

আজ ‎মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে এসব চাপ প্লেট উদ্ধার করা হয়।

‎স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ১০টি চাপ প্লেট সংগ্রহ করা হয়েছে। সীমান্তের আরও কিছু জায়গায় স্থল মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থল মাইন এবং ছোড়া গুলিতে সীমান্তে বসবাসকারীরা হতাহত হচ্ছে। এতে আতঙ্কে দিন পার করছেন সীমান্তবর্তী মানুষ।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া অংশগুলো মূলত স্থল মাইনের অগ্রভাগ বা চাপ প্লেট-যা মাটির ওপরে বসানো থাকে এবং চাপ পড়লে মাইন সক্রিয় হয়। সাধারণত একটি স্থল মাইনে কেসিং, বিস্ফোরক অংশ, বুস্টার চার্জ, ফায়ারিং মেকানিজম ও ডেটোনেটর থাকে। তবে উদ্ধার হওয়া অংশগুলোতে কেবল চাপ প্লেট ও কিছু বাহ্যিক অংশ পাওয়া গেছে।

‎এদিকে সীমান্তে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা নাফ নদ এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে স্থল মাইন, আইইডি ও এপারে এসে পড়া গুলিতে জেলে, কৃষক ও শিশুসহ নিরীহ মানুষ হতাহত হচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১২ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্তে নাফ নদে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে হানিফ নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। এর আগের দিন একই এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে শিশু হুফাইজা আফনান গুলিবিদ্ধ হয়।

‎স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোনাফ বলেন, ‘আমরা মাঠে যেতে পারি না, সীমান্তে যেতেও ভয় লাগে। কখন যে মাইনে পা পড়ে যায়, সেই চিন্তায় সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকি। সন্তানদের ঘর থেকে বের হতে দিতেও ভয় লাগে।

‎জেলে রহিম উল্লাহ জানান, ‘নাফ নদ আর সীমান্তই আমাদের জীবিকা। কিন্তু এখন নৌকা নামালেই ভয়। ওপার থেকে গুলি আসে, আবার মাইনের আতঙ্ক। এভাবে কি মানুষ বাঁচতে পারে।’

‎স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, সীমান্ত এলাকার মানুষ কার্যত মৃত্যু ভয় নিয়েই দিন কাটাচ্ছেন। শিশুদের স্কুলে পাঠানো নিয়েও পরিবারগুলো শঙ্কায় রয়েছে। দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিলে টেকনাফের এই জনপদে আতঙ্ক আরও গভীর হবে।

৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্ত এলাকা থেকে স্থল মাইনের চাপ প্লেটের মতো বেশ কয়েকটি অংশ পাওয়া গেছে। এগুলোতে আপাতত বিস্ফোরক নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

‎তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/154581