ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন।

আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বৈঠক শেষে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি এসময় জানান, ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আনসার সদস্যদের ডিউটি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মোট ৮টি দাবি ও প্রস্তাব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করেন। যা বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে মানসিক প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আজই কাজে যোগ না দিয়ে আগামীকাল (সোমবার) সকাল ৮টা থেকে নিয়মিত দায়িত্ব পালন শুরু করবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- হাসপাতালে প্রতিটি এডমিশন ইউনিটে ২ জন (একজন পুরুষ ওয়ার্ড ও একজন মহিলা ওয়ার্ড) করে প্রশিক্ষিত আনসার নিয়োজিত থাকতে হবে; এছাড়া ইভিনিংয়ে ১ ঘণ্টা পর পর টহল টিম থাকবে, যারা প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে তদারকি করবে; আর রাতে অনকল ইন ইমার্জেন্সি হিসেবে ফোর্স প্রস্তুত থাকতে হবে;

রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ জন এটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে; শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন আলাদা সময়ে ভিজিটিং টাইম চালু করতে হবে; সেক্ষেত্রে কোনো অবস্থায় একজন রোগীর সঙ্গে ২ জনের বেশি এটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে না; পরিচালক স্যারের সঙ্গে প্রতি মাসে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটা মাসিক সভার ব্যবস্থা করতে হবে; হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে সর্বদা মিডলেভেল ডাক্তার থাকতে হবে, বিশেষ করে এডমিশনের দিন।

অধিকাংশ এসিস্টেন্ট রেজিস্ট্রার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শিক্ষানবিশ সময়ে তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রদানের ব্যাপারে উদাসীন থাকেন, এ বিষয়ে তাদেরকে আরও দ্বায়িত্বশীল হতে হবে।

হাসপাতালে যে পুলিশ বিভাগ নিয়োজিত আছে তাদেরকে হাসপাতালের নিরাপত্তার পরিবেশ সুন্দর রাখতে আরও দ্বায়িত্বশীল ও কার্যকর করতে হবে।
নিয়মিত ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়োজিত আনসার ও আউটসোর্সিং কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোটেশন করতে হবে।

হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির স্বাধীন প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে হবে, প্রয়োজনে নির্ধারিত ভিজিটিং আওয়ারের ব্যবস্থা করতে হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও স্টাফদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যান ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আংশিকভাবে ব্যাহত হয়।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/154295