বগুড়া জিলা স্কুলের দিয়ান জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত
স্টাফ রিপোর্টার : মাধ্যমিক পর্যায়ে দেশের চার লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুর রহমান দিয়ান। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে বগুড়া জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী দিয়ান এই গৌরব অর্জন করেছেন।
বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে “শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী” ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণ করে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে সদর উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হোন। এরপর জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বগুড়ার বার উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতা করে দিয়ান ৯৭ নম্বর পেয়ে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী ক্যাটাগরিতে একজন শিক্ষার্থীর বিগত বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল, উপস্থিতির হার সংগীত বা কবিতা আবৃত্তি, খেলাধুলা দক্ষতা সৃজনশীল লেখা, ক্লাব কার্যক্রমের সম্পৃক্ততা, নেতৃত্ব দানের গুণাবলী, সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ, বিজ্ঞান প্রজেক্ট বা অলিম্পিয়াড, ডিজিটাল লিটারেসি দক্ষতা, নৈতিক দৃঢ়তা এবং বিতর্ক বা উপস্থিত বক্তৃতার মতো দক্ষতার মানদণ্ডের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত করা হয়। সম্পূর্ণ মানদন্ডটি ১শ’ নম্বরের।
বগুড়া ডায়াবেটিক হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের সিনিয়র ইনচার্জ শহরের রহমান নগরের বাসিন্দা সাজেদুর রহমান সবুজ ও গৃহিনী নাজরিন খাতুনের দুই সন্তানের মধ্যে ছোট আব্দুর রহমান দিয়ান বিভিন্ন রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। তার উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালে মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত সেইফটি দিবস উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের রচনা প্রতিযোগিতায় সারাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন ।
পাশাপাশি দিয়ান একজন বিতার্কিক এবং বিভিন্ন মানুষের সাথে নেটওয়ার্কিং করতে ভালোবাসেন। আব্দুর রহমান দিয়ান ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে ভালবাসেন। “বগুড়া পেসার্স” নামে দিয়ানের একটি সংগঠন রয়েছে। যার ফাউন্ডার অ্যান্ড এক্সিকিউটিভ চেয়ারপার্সন সে। ওই সংগঠনের মাধ্যমে মানুষের সুস্বাস্থ্যের লক্ষ্যে ম্যারাথন ইভেন্ট আয়োজনসহ সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
এছাড়াও স্টার্টআপ বগুড়া নামের আরও একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও চীফ এক্সিকিউটিভ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছেন দিয়ান। যে সংগঠনের মাধ্যমে তরুণদের ইনোভেটিভ আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করছেন দিয়ান।
দিয়ান বলেন, আমি একজন তরুণ শিক্ষার্থী হিসেবে সমাজের কাছে আমার একটাই বার্তা থাকবে, আমরা শিক্ষার্থীরা যদি ঠিকভাবে পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন কো-কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিস এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে পারি, তাহলে এ শিক্ষা সমাজের বিভিন্ন কাজে লাগবে।
জীবনকে একটি বর্গের সাথে তুলনা করা উচিত। বর্গের চারটি বাহু যেরকম সমান, সেরকম একজন শিক্ষার্থীকেও সব দিক দিয়েই সমান হওয়া উচিত। তাহলেই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য মনুষ্যত্ব অর্জন সম্ভব হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/154214