সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে ‘এআই ড্যান্সিং বেবি

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে ‘এআই ড্যান্সিং বেবি

আইটি ডেস্ক : বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুললেই চোখের সামনে ভেসে উঠছে এক অদ্ভুত ও চমকপ্রদ দৃশ্য একরত্তি শিশু বা ‘কিউট বেবি’রা পেশাদার নৃত্যশিল্পীদের মতো নিখুঁত তালে নাচছে। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম রিলস কিংবা ইউটিউব শর্টসে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া এই ভিডিওগুলো মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বা এআই-এর কারসাজি। নিছক বিনোদনের গণ্ডি পেরিয়ে প্রযুক্তির এই অভিনব ব্যবহার এখন ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েশনের দুনিয়ায় নতুন এক ট্রেন্ড বা ধারার জন্ম দিয়েছে।

 

‘এআই ড্যান্সিং বেবি’ ভিডিওগুলো মূলত অত্যাধুনিক ‘এআই মোশন ট্রান্সফার’ প্রযুক্তির ফসল। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এই প্রযুক্তিতে একটি স্থির ছবিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে প্রাণবন্ত করা হয়। এখানে কোনো বাস্তব শিশুকে দিয়ে নাচানো হয় না, বরং একজন পেশাদার নৃত্যশিল্পীর নাচের ভিডিওকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে সেই নড়াচড়া বা ‘মুভমেন্ট’ হুবহু একটি অ্যানিমেটেড বেবি চরিত্রের ওপর প্রয়োগ করা হয়। ফলে পর্দায় দেখা যায়, ডিজনি বা পিক্সার স্টাইলের একটি শিশু কে-পপ, হিপহপ কিংবা ভাইরাল হওয়া কোনো গানের তালে তালে নিখুঁতভাবে নাচছে।

 

এই ধরনের ভিডিও তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েক ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপেই প্রয়োজন একটি আকর্ষণীয় বেবি ক্যারেক্টার বা চরিত্র। গুগল জেমিনি বা মিডজার্নির মতো ‘এআই ইমেজ জেনারেটর’ ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা সহজেই নিজের পছন্দমতো থ্রিডি বেবি ইমেজ তৈরি করে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে চরিত্রের ভঙ্গি এবং আলোর ব্যবহার বা লাইটিং ঠিকঠাক রাখা জরুরি, যাতে অ্যানিমেশনটি বাস্তবসম্মত মনে হয়।

 

পরবর্তী ধাপে আসে মোশন ট্রান্সফারের কাজ। স্থির ছবিটিকে সচল করার জন্য বিশেষ এআই টুল ব্যবহার করা হয়। ব্যবহারকারীকে একটি ‘রেফারেন্স ড্যান্স ভিডিও’ আপলোড করতে হয়, যা দেখে এআই অ্যালগরিদম হাতের ভঙ্গি, পায়ের কাজ এবং শরীরের দুলুনি হুবহু নকল করে ওই স্থির ছবিটিতে প্রয়োগ করে। এই ধাপে ‘রেন্ডারিং’ বা ভিডিও প্রসেসিংয়ের সময় শরীরের ভারসাম্য এবং মোশন স্ট্রেন্থ বা গতির তীব্রতা ঠিক করে নেওয়া হয়, যাতে ভিডিওটি কৃত্রিম মনে না হয়।

 

ভিডিও তৈরির কারিগরি দিক শেষ হলে আসে এডিটিং পর্ব। বর্তমান সময়ে যেকোনো ভিডিও ভাইরাল করার ক্ষেত্রে সঠিক মিউজিক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে জনপ্রিয় বা ট্রেন্ডিং গানের বিটের সঙ্গে নাচের তাল মেলানো হয়। একে বলা হয় ‘বিটস সিঙ্ক এছাড়া ভিডিওতে আকর্ষণীয় টেক্সট, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং শিশুর কণ্ঠে মজার ভয়েস জুড়ে দিয়ে কনটেন্টটিকে আরও উপভোগ্য করে তোলা হয়।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ভিডিও ভাইরাল করার মূলমন্ত্র হলো ধারাবাহিকতা এবং সৃজনশীলতা। একটি নির্দিষ্ট বেবি চরিত্রকে ব্র্যান্ড হিসেবে দাঁড় করানো এবং নিয়মিত সেই চরিত্রের মাধ্যমে নতুন নতুন ট্রেন্ডিং গানে পারফর্ম করানোটাই সফলতার চাবিকাঠি। সঠিক ‘প্রম্পট’ (নির্দেশনা) ব্যবহারের মাধ্যমে চরিত্রের পোশাক ও ব্যক্তিত্ব অপরিবর্তিত রাখলে দর্শকদের সঙ্গে একটি দীর্ঘস্থায়ী সংযোগ তৈরি হয়।

 

 

এআই ড্যান্সিং বেবি ট্রেন্ডটি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে অ্যানিমেশন প্রযুক্তি এখন সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয়। একসময় যে ধরনের অ্যানিমেশন তৈরি করতে বড় স্টুডিও এবং বিশাল বাজেটের প্রয়োজন হতো, এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কল্যাণে স্মার্টফোন বা সাধারণ কম্পিউটার ব্যবহার করেই তা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। তবে প্রযুক্তির এই সহজলভ্যতা সৃজনশীলতার দুয়ার খোলার পাশাপাশি কপিরাইট ও এথিক্যাল ব্যবহারের প্রশ্নেও সচেতনতার দাবি রাখে। ভবিষ্যতের ডিজিটাল মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিংয়ে এই ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সাররা বড় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

 

 

 

 

 

 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/154152