বাংলাদেশে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বেড়েছেঃ এইচআরডব্লিউ

বাংলাদেশে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বেড়েছেঃ এইচআরডব্লিউ

নির্বাচন-পূর্ব বাংলাদেশে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংগঠনটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ‘বর্ষা বিপ্লব’ পরবর্তী সময়ে নারী, শিশু ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকার রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকার আশানুরূপ সফল হতে পারেনি।

সংগঠনটির নারী অধিকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক শুভিজৎ সাহার লেখা এই প্রতিবেদনে পুলিশের তথ্য ব্যবহার করে দেখানো হয়েছে যে ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। 

 

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেমের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড নারীদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও সামাজিক অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের মে মাসে নারীর ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধে কট্টরপন্থীদের প্রতিবাদের পর থেকে নারীরা মৌখিক, শারীরিক ও ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যাপক নিপিড়নের শিকার হচ্ছেন। আর এই পরিস্থিতি তাদের নীরব থাকতে বাধ্য করছে।

 

সংখ্যালঘু ও জাতিগত গোষ্ঠীর ওপর হামলার চিত্রও প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলা সহিংসতার চিত্রও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। গত ডিসেম্বরে দীপু চন্দ্র দাস নামের এক পোশাককর্মীকে পিটিয়ে হত্যার পাশাপশি অন্তত ৫১টি সহিংসতার ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০টিই ছিল হত্যাকাণ্ড। এছাড়া চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুদের ওপর নিরবচ্ছিন্ন নির্যাতনের বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই নারী প্রধানমন্ত্রীর শাসনামল এবং ২০২৪-এর আন্দোলনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলেও রাজনীতিতে এখনো তাদের অধিকার অত্যন্ত সীমিত। আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৫১টি দলের মধ্যে ৩০টিতে কোনো নারী প্রার্থী নেই এবং জামায়াতে ইসলামীর মতো বড় ইসলামপন্থি দলগুলোও কোনো আসনে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি।

এই পরিস্থিতি নিরসনে এইচআরডব্লিউ অন্তর্বর্তী সরকারকে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সিডও ও আইসিসিপিআর সনদ অনুযায়ী বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় সাংবিধানিক বিধান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে, লিঙ্গসমতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সব রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া জরুরি।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/154101