গাইবান্ধার সাঘাটায় এক মাসে অর্ধশতাধিক বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি
সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: ইরি-বোরো মৌসুমের শুরুতেই গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বৈবদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও মিটার চুরি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একের পর এক সেচপাম্পের ট্রান্সফরমার উধাও হয়ে যাওয়ায় সেচ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। গত এক মাসের মধ্যে অন্তত অর্ধশতাধিক ট্রন্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে অন্তত ২ হাজার বিঘার বেশি জমির বোরো আবাদ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বোরো মৌসুম সামনে রেখে সাঘাটা উপজেলার পবনতাইড়, ফলিয়া দিগর, সাঘাটা, কামালেরপাড়া, পদুমশহর, কচুয়া সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গত এক মাসের মধ্যেই ১০ বরেন্দ্র বহুমুখী কর্তৃপক্ষের গভীর সেচপাম্পের ৩০টি এবং অগভীর সেচপাম্পের ৩০-৩৫টি সহ অন্তত অর্ধশতাধিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।
প্রতিটি বরেন্দ্র সেচের আওতায় যেখানে ১৫০-১৭০ বিঘা, আর অগভীর সেচে ৫০-৭০ বিঘা জমি আবাদ হয়, সেখানে ট্রান্সফরমার না থাকায় জমিতে পানি দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যান্য এলাকায় ইতোমধ্যে ইরি-বোরো রোপণ শুরু হলেও সেচ বন্ধ থাকায় কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
কৃষকরা জানায়, বোরো রোপণ শুরু হয়েছে এমন সময় সেচপাম্প থেকে ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় বোরো আবাদ এবার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সেচপাম্প মালিকদের অভিযোগ, থানায় জিডি ও বিদ্যুৎ বিভাগে বার বার জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান মিলছে না।
নতুন ট্রান্সফরমার পেতে দীর্ঘসূত্রতা, আর বাজার থেকে কিনতে গেলে প্রতিটি ট্রান্সফরমারের দাম লাখ টাকার কাছাকাছি, যা বহন করা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব। চুরির শিকার হয়েছে শিল্প প্রতিষ্ঠানও। মথরপাড়া এলাকায় একটি ইটভাটার একাধিক ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গাইবান্ধা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ বিষয়ে দক্ষ এবং বিদ্যুৎ কাজের সাথে সংশ্লিষ্টদের দ্বারাই ট্যান্সফরমার চুরি সম্ভব। চুরি ঠেকাতে পাহারা ছাড়া আপাতত বিকল্প নেই। আর চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার সরকারিভাবে সরবরাহের সুযোগও নেই। তবে অফিসের পূর্বে পুরাতন ট্রান্সফমারগুলো মেরামত করে সেচ গুলো চালু রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বোনারপাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জালাল উদ্দীন জানান, ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়ে থানায় মামলা ও জিডি করা হয়েছে। নতুন করে ট্রান্সফরমার ক্রয় করে সেচপাম্প চালু রেখে ট্রান্সফরামর পাহারা দিতে বলা হয়েছে।
সাঘাটা থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি নিয়ে তদন্ত চলছে খুব শীঘ্রই চোরচক্রকে শনাক্ত এবং গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। সেচ মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এভাবে চুরি চলতে থাকলে বোরো উৎপাদনে বড় ধরণের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষক ও সচেতন মহল। দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত, নজরদারি জোরদার এবং জরুরি ভিত্তিতে সেচপাম্পে ট্রান্সফরমার সরবরাহের দাবি উঠেছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/154089