‘ভেজাল নাই’ পেইজ দিয়েই রুমানা তৈরি করে নিয়েছেন আস্থা
নিজের আলোয় ডেস্ক : ‘ভেজাল নাই’ নামটা শুনলেই মনের মধ্যে একটা আস্থার জায়গা আসে। নামের সঙ্গে পণ্যের এত মিল যেন কথা আর কাজের সমন্বয়। নির্ভেজাল খাদ্য সরবরাহ করাই যদের লক্ষ্য আর এভাবেই ২০২০ সাল থেকে শুরু এ প্রতিষ্ঠানের। পেইজটির কর্ণধার রুমানা আহমেদ রূপা বলেন, করোনাকালীন যখন মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে কমে গিয়েছিল, দরকার পড়ছিল প্রচুর ইমিউনিটির তখন একমাত্র প্রতিকার বিশুদ্ধ খাবারের ওপর অনেকেই নির্ভর হন এবং খুঁজতে থাকেন। সেই সময় রূপা ভেজাল নাই পেইজটি খোলেন।
প্রথমে খাঁটি ঘি বিক্রি শুরু করেন, নিজের বাড়ি সিরাজগঞ্জ, তাই এই ঘিও তিনি সেখান থেকেই তৈরি করে আনেন। সেই সময় রূপা অনেক চিন্তাভাবনা করে দেখেছিলেন, যেহেতু ঘি হজমশক্তি বৃদ্ধি করে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, এমনকি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়, এজন্যই মূলত তিনি এমন একটা প্রডাক্ট নিয়ে কাজ শুরু করলেন, যেন নিজেও টিকে থাকতে পারেন এবং মানুষেরও উপকার হয়। তবে ২০০৯ সাল থেকে রূপার একটা অনলাইন এবং শোরুম ছিল, নাম ‘রূপা বুটিক হাউস’। কিন্তু ২০২০ সালে যখন প্যানডামিক এসে তাকে ঘরে বসিয়ে দেয়। তখন চিন্তা করলেন এমন কিছু করার কথা, যেন যে কোনো দুর্যোগেই তার প্রয়োজনীয়তা থাকে। কারণ তিনি উপলব্ধি করেছিলেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যে কোনো সংকটে মানুষ বেঁচে থাকার লড়াইয়ের থেকে আর কিছু আগে ভাবতে পারে না।
তখনই সিদ্ধান্ত নেন ভেজালমুক্ত খাবার সরবরাহ করার। প্রথমে শুধু ঘি বিক্রি করলেও পরে ঘানি ভাঙা সরিষার তেল, নিজের মেশিনে ভাঙানো হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, জিরার গুঁড়া তৈরি করছেন এবং টমেটো সস ও টমেটো চিলি সসটাও তার পেজের বেশ জনপ্রিয়। বর্তমানে তিনি একা হাতে দুটিই চালাচ্ছেন, একটা ‘রূপা বুটিক হাউস’ অন্যটা ‘ভেজাল নাই।’ তবে পাশাপাশি আরও অনেক কিছুই করছেন রূপা। যেমন এগ্রো কোম্পানি খুলেছেন, যেটার নাম ঢাকা এগ্রো ফুড। ঢাকা এগ্রো ফুড বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছে, যা দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। ২০২০ সালে আরও একটি দারুণ উল্লেখযোগ্য যাত্রা শুরু করেন রূপা।
প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের তুলে আনার লক্ষ্যে এবং ঘরে ঘরে নারী উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে একটি গ্রুপ তৈরি করেন তিনি। নারী উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন নামে গ্রুপটি এখন অনেক নারীর পথচলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে। সম্প্রতি জাতীয় মানবাধিকার দিবসে সম্মাননা পেয়েছেন তিনি এই মানবিক কাজের জন্য। এ ছাড়া মানবাধিকার সংস্থার খিলগাঁও থানার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রূপা।
দেশ থেকে প্রচুর সম্মাননা আছে তার ঝুড়িতে। তবে উদ্যোক্তা হিসেবে ভারত থেকেও পেয়েছেন সম্মাননা। আমেরিকা থেকে মানব কল্যাণের জন্যও সম্মাননা অর্জন করেছেন রূপা। ভবিষ্যতে ‘ভেজাল নাই’ উদ্যোগকে বড় পরিসরে বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা রূপার। তবে এসব এত সহজে হয়নি তার। অনেক বাধা ছিল। ভালো কাজ করলে অনেক বাধা আসবে, সেটা মাথায় রেখেই রূপা কাজে নেমেছিলেন। বাধা পেরিয়ে জয় হলেই তো আসল আনন্দ বলে মনে করেন তিনি। তাই ব্যবসায় লাভ না খুঁজে সেবার দিকে মন দিতে বললেন নতুন উদ্যোক্তাদের। তবেই স্থায়ী হওয়া যাবে মানুষের মনেও। ব্যতিক্রম চিন্তা মাথায় রাখতে হবে। নিজের উদ্যোগকে টাকা কামানোর দিকে না ঝুঁকে ব্র্যান্ড তৈরি করাকেই শ্রেয় মনে করেন তিনি।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/154083