জরাজীর্ণ ভোটকেন্দ্র সংস্কারে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারা দেশের জরাজীর্ণ ভোটকেন্দ্র সংস্কারে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত নির্বাচনযোগ্য করতে ৬ কোটি ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এসব সংস্কারকাজের স্বচ্ছতা ও সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে উপজেলা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে দুই স্তরের তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এর আগে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চাহিদা অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত জরাজীর্ণ ভবনের তালিকা প্রস্তুত করে। সেই তালিকার ভিত্তিতেই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর (ইইডি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সারা দেশে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ৯৪৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অবকাঠামোগতভাবে জরাজীর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর সীমানা প্রাচীর নেই, দরজা-জানালা ভাঙাচোরা, কোথাও স্যানিটেশন ও বিদ্যুৎব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে। ভোটার ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব কেন্দ্র দ্রুত সংস্কার জরুরি বলে মত দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সংস্কারকাজ তদারকির জন্য উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির সদস্য থাকবেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সিটি করপোরেশন এলাকায় যেসব অঞ্চলে ইউএনও নেই, সেখানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সভাপতি করে তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রভিত্তিক পৃথক কমিটি থাকবে, যারা সরাসরি প্রতিষ্ঠানের অবস্থা মূল্যায়ন ও সংস্কারকাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর জানিয়েছে, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামত ও পুনর্বাসন’ খাত থেকে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বরাদ্দের অর্থ শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা মেরামত, ছাদের লিকেজ বন্ধ, ভবনের সংস্কার, বিদ্যুৎ-সংযোগ নিশ্চিতকরণ, শৌচাগার ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ব্যয় করা হবে।
ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারের জন্য ডিডিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছর ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/154050