সিরাজগঞ্জে বিভিন্ন ফসলের বাম্পার ফলন ঘুরে দাঁড়িয়েছে চরের অর্থনীতি
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর বুকজুড়ে জেগে ওঠা পলিমাটিযুক্ত চরে বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক আবাদ হচ্ছে। গম, কাউন, ভুট্টা, বাদাম, মিষ্টি আলু, তিল, তিসি, লাউ, মরিচ, হলুদ, শসা, শিম, কুমড়া, বেগুন, পেঁয়াজ, রসুন, ধানসহ নানা রকম শাক-সবজি আবাদ হচ্ছে চরের জমিতে। এছাড়া গবাদি পশু পালন করেও নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলছেন তারা। এতে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে এসব চরের অর্থনীতি।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার চরাঞ্চলে মোট জমির পরিমাণ ৬৮ হাজার ৩৫ হেক্টর জমি। এরমধ্যে ৪৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে নানা ধরনের ফসলের আবাদ হচ্ছে। সদর উপজেলার কাওয়াকোলা চরের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ৫ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেছেন তিনি। পলি মাটিতে ফসলও বেশ ভালো হয়েছে। শাহজাদপুর উপজেলার রুপবাটি চরের আবুল হোসেন জানান, ২০/২৫ বছর আগেও চরে এরকম আবাদ হয়নি। তখন অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটলেও এখন তারা খুব ভাল আছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে বাদাম, মরিচ, ধান, বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে তারা এখন স্বাবলম্বী।
শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতি বছরের মত এবারও চরাঞ্চলে বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়েছে। নতুন পলিযুক্ত মাটিতে কৃষি বিভাগের পরামর্শে আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষ করছেন কৃষক-কৃষাণিরা। ফলে নদীভাঙন কবলিত এসব এলাকার কৃষকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম নাসিম হোসেন জানান, চরে আবাদের জন্য কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণসহ নানা পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়া কৃষিতে সরকারি প্রণোদনায় চরের কৃষিতে কল্পনাতীত সাফল্য এসেছে। সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ. কে. এম মঞ্জুরে মওলা বলেন, জেলার ৫টি উপজেলায় চরাঞ্চলে ৬৮ হাজার ৩৫ হেক্টর জমি রয়েছে। এরমধ্যে ৪৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে নানা ধরনের ফসলের আবাদ হচ্ছে। পলিযুক্ত শতকরা ৮০ ভাগ উর্বর জমিতে ভুট্টা, গম, বাদামসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন আশাতীত। পক্ষান্তরে ধানের জন্য সেচ সুবিধায় রয়েছে ২০ ভাগের মত অপেক্ষাকৃত উঁচু জমি।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/154009