জানুয়ারির অর্ধেক পেরোলেও বগুড়ায় মাধ্যমিকের সব বই পায়নি শিক্ষার্থীরা

জানুয়ারির অর্ধেক পেরোলেও বগুড়ায় মাধ্যমিকের সব বই পায়নি শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার : নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর দুই সপ্তাহ পার হলেও বগুড়ার মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষার্থীর হাতে এখনও পাঠ্যবই পৌঁছায়নি। বিশেষ করে ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখনও সব বই পায়নি, ফলে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিবছর ১ জানুয়ারি সারাদেশে একযোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়। তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে বগুড়ায় মাধ্যমিক পর্যায়ে বই বিতরণ এখনও শতভাগ সম্পন্ন হয়নি। জানুয়ারির ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও অনেক বিদ্যালয়ে একাধিক বিষয়ের বই সরবরাহ বাকি রয়েছে। বই না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বই না থাকায় পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে বোর্ডে লিখে বা পুরোনো বইয়ের সাহায্যে পাঠদান চালাতে হচ্ছে, যা কার্যকর নয়। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও হতাশ। 

ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, নতুন ক্লাসে উঠে বই না পাওয়ায় পড়া বুঝতে কষ্ট হচ্ছে। সব বন্ধুরা একসঙ্গে বই না পেলে পড়াশোনা ঠিকভাবে হয় না। অভিভাবকরাও দ্রুত বই সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কিছু বিষয়ের বই সময়মতো ছাপা ও সরবরাহ না হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির কয়েকটি মূল বিষয়ের বই এখনও সব বিদ্যালয়ে পৌঁছেনি। ফলে শিক্ষার্থীদের খাতা-কলম হাতে থাকলেও বই ছাড়া ক্লাস করতে হচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, জেলায় মাধ্যমিক স্তরের চাহিদার এখনও ২৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছেনি। জেলায় মোট চাহিদা ছিল ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৬৮টি বই। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত জেলায় বই এসেছে ১৯ লাখ ২৯ হাজার ৭১০ পিস। এখনও ঘাটতি রয়েছে ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৯৫৮ পিস।

অপরদিকে জেলার স্কুলগুলোতে ষষ্ঠ শ্রেণির চাহিদা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৭০ শতাংশ বই এসেছে এখনও বাকি রয়েছে ৩০ শতাংশ। একই শ্রেণিতে মাদ্রাসার চাহিদার ৯১ শতাংশ বই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া হলেও বাকি রয়েছে ৯ শতাংশ। অষ্টম শ্রেণির সাধারণ স্কুলগুলোর চাহিদার ৯১ শতাংশ বই শিক্ষার্থীরা পেলেও এখন বাকি রয়েছে ৯ শতাংশ। মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের চাহিদার ৯৩ শতাংশ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে গেছে।

বগুড়ার শাজাহানপুরের ফয়েজুল্বা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজল কুমার সরকার জানান, তার বিদ্যালয়ে ৭ম ও ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সব বই পেলেও ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সব বই পাওয়া যায়নি। ষষ্ঠ শ্রেণির ১১টি বইয়ের মধ্যে গণিত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, কৃষি শিক্ষা/গার্হস্থ্য বিজ্ঞানসহ চারটি বই এখনও পাওয়া যায়নি। ৮ম শ্রেণির ১১টি বইয়ের মধ্যে বাংলা, বাংলা দ্রুত পঠন, ইংরেজি প্রথম পত্র, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কৃষি শিক্ষা ও গার্হস্থ্য বিজ্ঞানসহ ছয়টি বই আসেনি।

সোনাতলা উপজেলার শেখাহাতী গ্রামের ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বদিউজ্জামান মুকুল জানান, তার বিদ্যালয়ে এখনও সকল বই আসেনি। ষষ্ঠ শ্রেণির ৪টি, ৭ম শ্রেণির ৫টি, ৮ম শ্রেণির একটি এবং ৯ম শ্রেণির আরও বেশ কয়েকটি বিষয়ের বইয়ের সংকট রয়েছে। সেগুলো এখনও শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।  বগুড়া করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ অসিত কুমার সরকার জানান, তার বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এখনও কয়েকটি বিষয়ের বই বাকি রয়েছে। যে বইগুলো পাওয়া যায়নি পুরনো বই থেকে ওই বইগুলোর ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ জানান, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই শিক্ষার্থীদের হাত পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা সম্ভব হয়নি। কিছু কিছু বইয়ের পাঠ্যসূচি বদলানো হচ্ছে এই কারণে এবার দেরি হচ্ছ। আশা করা যাচ্ছে এই মাসের মধ্যেই শতভাগ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/153998