শমিত শোমকে ছেড়েই দিলো ক্যাভালরি এফসি
স্পোর্টস ডেস্ক : : কানাডার পেশাদার ফুটবল ক্লাব ক্যাভালরি এফসি’র সঙ্গে দীর্ঘ তিন বছরের সম্পর্কের অবসান ঘটেছে বাংলাদেশের জাতীয় দলের মিডফিল্ডার শমিত শোমের। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে ছেড়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।
শমিতের পাশাপাশি দিয়েগো গুতিয়েরেজ নামের আরও একজন ফুটবলারকে রিলিজ দিয়েছে ক্লাবটি। মূলত চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং তা নবায়ন না করার পরিপ্রেক্ষিতেই কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) এই ক্লাবটি থেকে বিদায় নিতে হলো শমিতকে। ক্যাভালরি এফসি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে শমিতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য শুভকামনা ব্যক্ত করেছে। শমিত শোম ২০২৩ সালে ক্যাভালরি এফসিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে ক্লাবটির হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় মোট ৭৯টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। রক্ষণাত্মক ও মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ এই ফুটবলার ক্লাবের জার্সিতে কোনো গোল করতে না পারলেও সতীর্থদের দিয়ে চারটি গোল করাতে (অ্যাসিস্ট) সক্ষম হয়েছেন।
তার উপস্থিতিতে ক্যাভালরি এফসি ২০২৩ সালে সিপিএল শিল্ড এবং ২০২৪ সালে নর্থ স্টার কাপ জয়ের গৌরব অর্জন করে। কানাডার বয়সভিত্তিক দল থেকেই নজর কাড়া এই ফুটবলার সিপিএলের সপ্তাহের সেরা খেলোয়াড় এবং সপ্তাহের সেরা একাদশে বেশ কয়েকবার জায়গা করে নিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলেও শমিত শোম বাংলাদেশের হয়ে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ দিয়ে তার জাতীয় দলে অভিষেক হয়। এখন পর্যন্ত লাল-সবুজের জার্সিতে ৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ১টি গোল করেছেন তিনি। তার একমাত্র গোলটি এসেছিল গত বছরের ১৩ নভেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হংকংয়ের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে তিনি বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান, যদিও শেষ মুহূর্তে হংকং গোল করে ম্যাচটি জিতে নেয়।
কানাডার ঘরোয়া ফুটবল লিগে শমিতের এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বর্তমানে ক্লাবহীন এই ফুটবলার এখন পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে কোন দেশের ক্লাবে যোগ দেন, সেটিই দেখার বিষয়। তার ক্যারিয়ারের এই নতুন মোড় বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমীদের মধ্যেও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। ক্যাভালরি এফসি থেকে তার এই বিদায় মূলত চুক্তির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও তার অবদান ক্লাবটির ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/153943