গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী করতে ডাকসুর মাসব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা
ঢাবি প্রতিনিধি: আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন ডাকসু নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু নেতারা বলেন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে জুলাইয়ের শহীদরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জনগণের সুস্পষ্ট সমর্থন অপরিহার্য। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হবে।
ডাকসু নেতারা আরও বলেন, ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে আর কখনো পিলখানা, শাপলা কিংবা জুলাইয়ের মতো গণহত্যা সংঘটিত হবে না। শিক্ষাঙ্গনে শহীদ নোমানী, আবরার ফাহাদদের মতো আর কাউকে জীবন দিতে হবে না। শহীদ শরিফ, শহীদ ওসমান হাদি-সহ সকল নিহত নেতা-কর্মী ও নাগরিক ন্যায়বিচার পাবেন। একই সঙ্গে গুম, খুন ও ‘আয়নাঘর’-এর মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটবে।
তারা জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে জুলাই সনদ কার্যকর হবে। রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে, একজন ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ স্বাধীন ও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি চাকরিতে নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং সমাজের সর্বস্তরে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পাবে। সকল ধর্ম, বর্ণ ও মতাদর্শের মানুষের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
ডাকসু নেতারা বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া শুধু একটি নাগরিক কর্তব্য নয়; এটি শহীদদের রেখে যাওয়া রক্তের আমানত রক্ষার শামিল। জনসাধারণ, তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ ছাড়া দেশকে ফ্যাসিবাদী কাঠামো থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এই গণভোটের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদী কাঠামোর চূড়ান্ত অবসান ঘটবে এবং একটি নতুন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির স্থায়ী রূপ লাভ করবে—যেখানে কেউ আর ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে পারবে না।
ডাকসুর মাসব্যাপী কর্মসূচি:
১. মার্চ মাসজুড়ে ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে দেশব্যাপী সরাসরি জনসংযোগ কার্যক্রম
২. অনলাইন ক্যাম্পেইন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ই-পোস্টার, ভিডিও, রিলস ও লেখালেখি
৩. প্রদর্শনী বিতর্কের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’-এর যৌক্তিকতা উপস্থাপন
৪. সেমিনার আয়োজন—রাষ্ট্রীয় সংস্কারে ‘হ্যাঁ’-এর গুরুত্ব, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার পর্যালোচনা ও তারুণ্যের ভাবনা
৫. সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভা
৬. প্রিন্ট ও টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা
৭. মোবাইল সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা
৮. অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা
৯. ‘জুলাই আহতদের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা
১০. গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গান, কবিতা ও ডকুমেন্টারি প্রকাশ
১১. ‘গণভোট নিয়ে তারুণ্যের ভাবনা’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রতিযোগিতা
১২. জনসচেতনতামূলক পথনাটক ও মাইম প্রদর্শনী
১৩. বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা
১৪. সামাজিক সংগঠনসমূহের সঙ্গে মতবিনিময় সভা
১৫. সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে সফর ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধকরণ
ডাকসুর পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি, এনসিপি-সহ দেশের সকল ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজ এবং আপামর ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশব্যাপী গণজোয়ার সৃষ্টির উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/153831