উত্তরাঞ্চলের দুই বিভাগসহ ১৯ জেলার ওপর দিয়ে বইছে শৈত্যপ্রবাহ, কনকনে শীতে কাঁপছে পুরো দেশ
স্টাফ রিপোর্টার : শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চলসহ পুরো দেশ। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) শুক্রবারের চেয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা একটু বেড়েছে। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) দেশের দুই এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে।
তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও বগুড়াসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব জেলা ও যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ ১৯ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু এবং মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা একটু বাড়লেও আগামী সোমবার থেকে আবারও কমার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আজ পৌষের ২৭ তারিখ। এ মাসেই ইতোমধ্যে তাপমাত্রা নেমেছে ৬ ডিগ্রিতে। দেশজুড়ে কনকনে ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে মানুষ। বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা কমায় প্রচন্ড শীত ও ঘনকুয়াশায় কাবু হয়ে পড়েছেন মানুষ ও প্রাণিকূল। সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও বৃদ্ধরা।
কয়েকদিনের অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহে সকালবেলা তীব্র শীত ও ঘনকুয়াশা ভেদ করে বিদ্যালয়ে যাওয়া শিশু শিক্ষার্থী, খিটে খাওযা মানুষ, অভিভাবকরা পড়ছেন বিপাকে। বেশি কাহিল হয়ে পড়েছে স্কুলগামী ছোট ছোট শিশুরা। কনকনে ঠান্ডায় আপাদমস্তক ঢেকে আবার কেউ কেউ মায়ের চাদরের নিচে মাথা লুকিয়ে বিদ্যালয়ের পথে রওনা হচ্ছে।
বেলা ১১টার আগে প্রয়োজন ছাড়া শহরে লোকসমাগম কম দেখা গেছে। আর যারা বের হয়েছিলেন তারাও বেশ শীতের কাপড় মুড়িয়ে জুবুথুবু হয়ে বের হয়েছিলেন। সকালে শহরের স্টেশন এলাকাসহ বেশকিছু এলাকার মোড়ে মোড়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশা ও মেঘের পর্দা সরিয়ে রোদ উঠলে কিছুটা স্বস্তি পায় শীতার্তরা। বিকেল হতে হতেই আবারও শিরশিরে বাতাসে বেশি শীত অনুভূত হতে থাকে।
যখন কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তখন তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে গণ্য করা হয়। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে তাকে অতিতীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
বগুড়া আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে শীতের এই পরিস্থিতি উন্নতির কোন সম্ভাবনা নেই। একটু একটু করে শীত কমলেও এই মাসের শেষ পর্যন্ত শীতের ঘনঘটা থাকবে। তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে ২০ তারিখের পর। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) বগুড়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সারাদেশে তাপমাত্রা নেমে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। এরমধ্যে উত্তরাঞ্চলের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। আমাদের পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গত দুইদিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। শুক্রবারের চেয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য কিছুটা বেড়ে আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার।
আবহাওয়া অফিসের হিসেবে তা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) শুক্রবার যা ছিল ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঝলমলে রোদের কারণে আগের দিনের চেয়ে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও সামান্য বেড়েছে। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনে ছিল ২০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) শুক্রবার সারাদিন রোদের দেখা মিললেও সন্ধ্যার পর থেকে অনেকটা ঝড়ের মত উত্তরের হাড় কাঁপানো হিমেল বাতাস প্রবাহিত হতে থাকে। এ অবস্থা চলে প্রায় সারারাত ধরেই। আর মধ্যরাত থেকে শুরু হয় ঘনকুয়াশা। প্রচন্ড ঠান্ডা সইতে না পেরে সন্ধ্যার পরই বাজার-ঘাট ফাঁকা হতে শুরু করে। রাত ১০টার পর জেলা শহরসহ অন্যান্য হাট-বাজার প্রায় মানুষশূন্য হয়ে পড়ে।
তবে রাতের ঘনকুয়াশা কেটে আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে সূর্যের দেখা মেলে। এরপর থেকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে সূর্যের তেজ। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্র নাথ রায় জানান, গত দুইদিন ধরে তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে।
তবে শুক্রবারের চেয়ে শনিবার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দু’টোই কিছুটা বেড়েছে। কিছুটা বিরতি দিয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/153436