ঘুমের মধ্যে আপনার পায়ের মাংসপেশিতে টান লাগলে যা করবেন

ঘুমের মধ্যে আপনার পায়ের মাংসপেশিতে টান লাগলে যা করবেন

রাতে গভীর ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পায়ের ডিম বা কাফ মাসলে তীব্র ব্যথায় ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। মুহূর্তের মধ্যে পায়ের পেশি শক্ত হয়ে যায়, নড়াচড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং মনে হয় রগ বা শিরা দলা পাকিয়ে গেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় নকচারনাল লেগ ক্র্যাম্পস।

চিকিৎসকরা বলছেন, এটি একটি সাধারণ সমস্যা হলেও বারবার হলে অবহেলা করা ঠিক নয়। সঠিক কারণ জানা ও কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এই যন্ত্রণা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

কারা বেশি ভোগেন?

শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সব বয়সী মানুষের মধ্যেই এই সমস্যা দেখা যায়। তবে গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করা মানুষ এবং নিয়মিত ভারী শারীরিক পরিশ্রম করেন এমনদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

কেন ঘুমের মধ্যে পায়ে টান ধরে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সময় পেশিতে টান ধরার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

১. শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন

২. ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি

৩. দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করা

৪. অতিরিক্ত ব্যায়াম বা হঠাৎ বেশি শারীরিক পরিশ্রম

৫. গর্ভাবস্থা ও বয়সজনিত পেশির দুর্বলতা

৬. রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা

ঘুমের মধ্যে পায়ে টান ধরলে কী করবেন?

 

চিকিৎসকদের মতে, ভয় না পেয়ে দ্রুত কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করলে ব্যথা অনেকটাই কমে যায়—

স্ট্রেচিং:

আক্রান্ত পা সোজা করে পায়ের পাতাটি নিজের দিকে টানুন। হাত দিয়ে আঙুল ধরে টান দিলে কাফ মাসল প্রসারিত হয় এবং ব্যথা কমে।

হাঁটাহাঁটি:

বিছানা থেকে নেমে ধীরে ধীরে কিছুক্ষণ হাঁটলে পেশি শিথিল হয়।

গরম সেঁক:

টান ধরা স্থানে হট ওয়াটার ব্যাগ দিয়ে সেঁক দিন অথবা কুসুম গরম পানিতে গোসল করুন।

ম্যাসাজ:

অল্প তেল দিয়ে হালকা হাতে মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, কিছু নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তুললে নকচারনাল লেগ ক্র্যাম্পসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব—

১. দিনে অন্তত ৩–৪ লিটার পানি পান করা

২. কলা, ডাবের পানি, বাদাম, পালং শাকসহ পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া

৩. ঘুমানোর আগে পায়ের হালকা স্ট্রেচিং বা কিছুক্ষণ হাঁটা

৪. উপুড় হয়ে না ঘুমিয়ে চিত হয়ে বা কাত হয়ে ঘুমানো

৫. দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে কাজ না করা

 

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, যদি প্রায়ই পায়ে টান ধরে, পা ফুলে যায়, ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ কখনো কখনো এটি ডায়াবেটিস, স্নায়ুর সমস্যা বা রক্ত সঞ্চালনজনিত জটিলতার লক্ষণও হতে পারে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/153383