পাবনার বেড়ার চাষ না করেও কাশফুলে সৌভাগ্যবান চরের মানুষ

পাবনার বেড়ার চাষ না করেও কাশফুলে সৌভাগ্যবান চরের মানুষ

বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল বরাবর যমুনা-পদ্মা তীরজুড়ে শীতের শেষে চোখে পড়ে সাদা কাশফুলের ঢেউ। এক সময় এই কাশফুলকে অনেকেই আগাছা বা অনাবাদি জমির হিসেবেই দেখতেন।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই অবহেলিত কাশফুল খড় আজ পানচাষিদের ভরসা হয়ে উঠেছে। কম খরচে পানের বরজ তৈরিতে কাশফুলের খড় পানচাষিদের ভরসা হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বেড়ার চরের দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার সাথে লড়াই করা এসব মানুষের জীবনে কাশফুল যেন এনে দিয়েছে নতুন জীবিকার দিশা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢালারচর, কাজিরহাট, নগরবাড়ী ঘাট, নাকালিয়া ঘাট, মোহনগঞ্জ ঘাট ও বৃশাশিখা কোলঘাট থেকে প্রতিদিন রাজশাহী, ঝালকাঠি, কুষ্টিয়া ও রাজশাহী জেলার পবা, মোহনপুর, দুর্গাপুর, বাগমারা এলাকার কাশবন খড় ব্যবসায়ীরা ট্রাক, নৌ-যানে করে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এই সকল জেলায় পানচাষিদের পানের বরজে ছাউনির তৈরির জন্য কাশবন খড় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

চাহিদা অনুসারে প্রতিবছর নভেম্বর, ডিসেম্বর দুই মাস এই ব্যবসা চলে। প্রতিদিন উপজেলার কয়েকটি ঘাট থেকে প্রায় ১০-১২ গাড়ি ট্রাক ও ১২-১৪ ট্রলার লোড করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্রেতারা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতি গাড়ি ট্রাকে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২শ’ আঁটি ও ট্রলারে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার আঁটি কাশফুল খড় বহন করে। এতে নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষগুলো আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত কবীর বলেন, কাশফুল কোন আবাদি ফসল নয়। তবে পানের বরজে কাশফুল খড় ব্যবহারের কথা শুনেছি। চরাঞ্চলের পতিত জমিগুলোতে মৌসুমি ফসল উৎপাদন করলে কৃষকরা বাড়তি রোজগার করতে পারবেন বলে মনে করি।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/152756