ঘি-মাখন, মাছ-মাংস-ডিম খেলেই কমবে ওজন?

ঘি-মাখন, মাছ-মাংস-ডিম খেলেই কমবে ওজন?

নতুন বছর শুরু মানেই অনেকের তালিকায় প্রথম কাজ ওজন কমানো। সাধারণত ডায়েট বলতে ভাত-রুটি বাদ দেওয়া, প্রিয় খাবার থেকে দূরে থাকা—এমন ধারণাই প্রচলিত। তবে সেই চেনা ধারণার বাইরে গিয়ে এখন আলোচনায় এসেছে ডুকান ডায়েট। এই ডায়েট মেনে চললে ঘি, মাখন, মাছ, মাংস ও ডিম খেয়েও দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব—এমনটাই দাবি করছেন অনুসারীরা।

ডুকান ডায়েট অনুসরণকারীদের কেউ কেউ বলছেন, সকালে সেদ্ধ ডিম বা বেকড মাছ, দুপুরে গ্রিলড চিকেন ও সবজি, রাতে হালকা মাখন মাখানো মাছ বা চিকেন— এভাবেই নিয়মিত খাওয়ার পরও ওজন কমছে খুব দ্রুত।

ডুকান ডায়েট কী?

ডুকান ডায়েট মূলত একটি লো-কার্বোহাইড্রেট ও হাই-প্রোটিন খাদ্যাভ্যাস। এটি তৈরি করেছেন ফরাসি চিকিৎসক পিয়ের ডুকান। তাঁর নাম অনুসারেই এই ডায়েটের নামকরণ। এই ডায়েটের মূল নিয়ম হলো— ভাত, রুটি, চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া এবং বেশি করে প্রোটিন ও শাকসবজি খাওয়া।

এই ডায়েটে খাবারের প্লেটের অর্ধেক জায়গা দখল করবে শাকসবজি, আর বাকি অর্ধেক থাকবে মাছ, মাংস বা ডিম। ভাত বা রুটির কোনো জায়গা নেই। একই সঙ্গে চিনিযুক্ত পানীয়, কোমল পানীয় ও মিষ্টিও নিষিদ্ধ।

ঘি–মাখন কি খাওয়া যাবে?

ডুকান ডায়েটে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিমিত পরিমাণে ঘি, মাখন বা চিজ খাওয়া যায়। দিনে এক থেকে দুই চামচ ঘি খেলে তাতে সমস্যা নেই বলে জানান পুষ্টিবিদরা। কেউ কেউ আবার ঘি-মাখনের বদলে অলিভ অয়েল, বাদাম বা অল্প তেলে রান্না করা মাছ-মাংস বেছে নেন।

কীভাবে কমে ওজন?

বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কার্বোহাইড্রেট কম খেলে শরীরে গ্লুকোজের সরবরাহ কমে যায়। তখন শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাতে জমে থাকা চর্বি ভাঙতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় কিটোসিস। ফলে আলাদা করে বেশি ব্যায়াম না করলেও ওজন কমতে থাকে।

এ ছাড়া প্রোটিনজাত খাবার খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। একই সঙ্গে প্রোটিন হজম করতে শরীরকে তুলনামূলক বেশি ক্যালোরি খরচ করতে হয়, যা ওজন কমাতে সহায়ক।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, প্রোটিন ডায়েট মানেই ইচ্ছেমতো চর্বিযুক্ত মাংস বা অতিরিক্ত রেড মিট খাওয়া ঠিক নয়। বেশি চর্বি বা তেলযুক্ত খাবার খেলে উল্টো ক্যালোরি বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি বারবিকিউ সস, মেয়োনিজ বা মিষ্টি ড্রেসিং ব্যবহার করলে ডায়েটের উপকারিতা অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়।

চিকিৎসকদের মত কী?

ডুকান ডায়েট নিয়ে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সুষম খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

তাদের মতে, অল্প সময়ের জন্য ডুকান ডায়েট মেনে চললে দ্রুত ওজন কমতে পারে। তবে দীর্ঘদিন কার্বোহাইড্রেট একেবারে বাদ দিলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে এবং অতিরিক্ত প্রোটিন কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

কীভাবে ডুকান ডায়েট মেনে চলবেন?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ডুকান ডায়েট একটানা দীর্ঘদিন না করে ১–২ সপ্তাহ অনুসরণ করা যেতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে অল্প পরিমাণে ভাত, রুটি, ডালিয়া (ভাঙা গম) বা কিনোয়ার মতো শস্য খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা উচিত।

একই সঙ্গে শিম, ডাল, বাদাম, ফল, লাল চালের ভাত, ব্রাউন ব্রেড, দুধ, দই ও বীজজাত খাবার খেলে শরীর পাবে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ।

সবচেয়ে নিরাপদ হলো—ডায়েট শুরু করার আগে অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া। এতে ওজন কমানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/152573